শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: মেজদা জেলায় ফিরতেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উচ্ছাস। পুনরায় সদ্য তৃণমূলে ফিরে আসা বিপ্লব মিত্র তাঁর অনুগামীদের কাছে মেজদা নামেই সুপরিচিত। কলকাতার তৃণমূল ভবনে ফের ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর কর্মী সমর্থকরা তাঁকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন।

অবশেষে আজ মঙ্গলবার তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরে ফিরে আসেন। বিপ্লব মিত্র ও তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্র জেলায় পৌঁছানোর আগেই অনুগামীরা কয়েকশো গাড়ি ও বাইক নিয়ে মালদহের নারায়ণপুর এলাকায় পৌঁছে যান। সেখান থেকে তাঁরা রীতিমতো ৱ্যালি করে মেজদা ও তাঁর ভাইকে গঙ্গারামপুরে নিয়ে আসেন।

রাজনৈতিক কোনও নেতাকে এত সংখ্যক গাড়ির সমাবেশে এভাবে র‍্যালি করে নিয়ে আসা দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রথম বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এমনকি বালুরঘাটের মানুষও এমন ছবি কখনও দেখেছেন কিনা মনে করতে পারছেন না। মালদহ-দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত এলাকা মেহেন্দি পাড়ার নিকট বিপ্লব মিত্র ও প্রশান্ত মিত্রকে সংবর্ধনাও দেন তাঁরা।

গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের পরাজয়ের দায় বিপ্লব মিত্রর উপরে চাপিয়ে তাঁকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করেছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। যে ঘটনার পরেই অভিমানে গত বছর ২৪ জুলাই দিল্লিতে গিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হলে ৩১ জুলাই তিনি কলকাতায় ফের তৃণমূলে যোগ দেন।

মেজদা মঙ্গলবার নিজের জেলায় আসবেন সে আসার খবর পেয়ে হিলি হরিরামপুর বালুরঘাট তপন সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুগামীরা মেহেন্দি পাড়ায় গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কেউ বা চারচাকা কেউ বা বাইক অনেকে তো টোটো ও ভুটভুটিতে চেপেই সেখানে পৌঁছে যান।

কলকাতা থেকে সড়ক পথে বিপ্লব মিত্র গাড়ি পৌঁছতে দেরি হতে দেখে অধিকাংশই মালদহের নারায়ণপুর পর্যন্ত পৌঁছে যান। তবে করোনা আবহে একসাথে এত মানুষের র‍্যালি ও সমাবেশে সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বালুরঘাটে ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াতে শুরু করেছিল বিজেপি।

বিপ্লব মিত্রের হাত ধরে বালুরঘাটে নিজেদের জমি আরও শক্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিপ্লব মিত্রের দলত্যাগ বিজেপির কাছে বড়সড় ধাক্কা হিসাবেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তা মানতে নারাজ বিজেপি। তাঁদের পালটা দাবি, মানুষ তাঁদের সঙ্গে আছে। সুতরাং কে গেল আর কে আসল তাতে কিছু যায় আসে না বলেই দাবি বিজেপির।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা