তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। এমনকি, নির্দ্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। আর এই অভিযোগ দূর করতে বিশেষ উদ্যোগী হল প্রশাসন। রাজ্যের মধ্যে প্রথম বাঁকুড়ার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘বায়োমেট্রিক উপস্থিতি’ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

আগামী বুধবার থেকে এই পদ্ধতি চালু হচ্ছে জানিয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) জগবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রথম পর্যায়ে জেলা শহরের মিশন বালিকা বিদ্যালয়, বঙ্গ বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁকুড়া বালিকা বিদ্যালয়, হিন্দু স্কুল ও মিশন বালিকা বিদ্যালয় (প্রাথমিক) এ পদ্ধতিতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাজিরা নথীভূক্তের কাজ শুরু হবে।

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, যে বিদ্যালয়ে ৫০ জন বা তার বেশী ছাত্র ছাত্রী রয়েছে সেখানে চলতি বছরের মধ্যে এই পদ্ধতিতে শিক্ষকদের হাজিরা নথিভূক্তির কাজ শুরু হবে। ২০২১ সালের মধ্যে জেলার ৩৫৬৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগামী দিনে শিক্ষকদের পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের হাজিরার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় গুলির প্রধান শিক্ষক, সহ শিক্ষক থেকে অভিভাবক সকলেই। মিশন বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জওহরলাল আচার্য বলেন, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। কিছু কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযোগ শোনা গেলেও বেশীরভাগ শিক্ষক নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন বলেই তিনি জানান। ঐ স্কুলেরই সহ শিক্ষিকা নমিতা ধবলও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতি চালুর পর কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যেন তাদের পাশে থাকেন এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া দরকার। অভিভাবক শিবনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী রায়রা এই হাজিরা পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, অভিভাবক হিসেবে আমরা এই সিদ্ধান্তে খুশি। অনেক জায়গায় শিক্ষকদের নিয়ে যে অভিযোগ শোনা যায় এবার তা বন্ধ হবে বলেই তারা মনে করেন।