পল্লবী দত্ত, ভাঙড়: ফের মিছিলে পা মেলাতে দেখা গেল স্কুল পড়ুয়াদের৷ যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷ কেন বার বার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের? উঠছে প্রশ্ন৷ যদিও মিছিলে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তির কিছু দেখছেন না বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী৷ তাঁর মতে স্বতস্ফূর্তার সঙ্গে শিশুরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে৷ তবে শিশুদের এভাবে মিছিলে ব্যবহার করায় কড়া নিন্দা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷

রবিবার জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ভাঙড়ে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়৷ভাঙড় আন্দোলনে বছরের শুরুতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় মফিজুল ও আলমগীর নামে স্থানীয় দুই যুবকের৷ এদিন তাঁদের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত সহ একাধিক দাবিতে এই মহা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়৷সেই মিছিলে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর নেতৃত্বে সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী সহ একাধিক বাম নেতাকে পা মেলাতে দেখা যায়৷তবে এদিন  মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে ছিল ছোট ছোট শিশুরা৷ তাদের পেছনে ছিল বাম নেতারা৷ এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কেন এভাবে শিশুদের মিছিলে ব্যবহার করা হল? বাম নেতা সুজন চত্রবর্তীর দাবি, স্বতস্ফূর্তভাবেই শিশুরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে৷ ভাঙড় অবরুদ্ধ করে রেখেছে তৃণমূল৷ মহিলারা বাইরে বেরতে পারছেন না৷ শিশুদের স্কুলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না৷ এমন পরিস্থিতিতে শিশু ও মহিলারা স্বতস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে৷

তবে এই ঘটনা নতুন নয়৷ এর আগেও সুজন চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে ভাঙড়ের মাছিভাঙা গ্রামের বছর ১৪র শোয়েব আখতারকে মঞ্চে উঠে শ্লোগান দিতে দেখা যায়৷তখনও প্রায় একই কথা বলেছিলেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন৷ এছাড়াও পুলিশের খাতায় পলাতক নকশাল নেতা অলীক চক্রবর্তীকে পাশে বসিয়ে সম্প্রতি সভা করেন সুজন চক্রবর্তী৷ ফলে বিরোধীদের এহেন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই৷

এদিকে গোটা ঘটনার নিন্দা করেছে তৃণমূল৷ ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা কাউজার মোল্লা বলেন, সিপিএমের মদতে মাওবাদীরা ভাঙড়ে মিছিল করেছে৷ আর সেই মিছিলে শিশুদের ব্যবহার করে নোংরা রাজনীতি করছে সিপিএম৷প্রশাসন এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেবে৷