স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বন্ধু বিয়োগে ভারাক্রান্ত, বিষণ্ণ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। শ্যামল চক্রবর্তীর প্রয়ানের খবর শুনে বারবার ফিরে গিয়েছেন পুরোনো কথায়।

বিমান বসুর কথায়, “দমদম মতিঝিল কলেজ থেকে যাত্রা শুরু। তারপর বিদ‍্যাসাগর কলেজ। ১৯৮১ সালে মানিকতলা উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন। পর পর তিনবার নির্বাচিত হন। প্রথম থেকেই ছাত্র, যুব, শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।”

বিমান বসুর কথায় “শ্যামল অত‍্যন্ত দরিদ্রতার মধ‍্যে বড় হয়েছেন। সুবক্তা ছিলেন শ‍্যামল। সুলেখকও ছিলেন। আমি, দীনেশ মজুমদার, সুভাষ, শ‍্যামল খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একে অপরকে সব শেয়ার করতাম। আমার মা ওকে খুব ভালবাসতেন। ওর চলে যাওয়া আমার ও আমাদের দলের ক্ষতি। ঊষসীর কম বয়সে মা চলে গিয়েছেন। ওর প্রতি সমবেদনা জানাই। ও থাকলে ভাল হত, কিন্তু চলে গেল। দলের বৃহত্তর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

১৯৭৩ সালে শিবপুরে অনুষ্ঠিত এসএফআইয়ের রাজ্য সম্মেলন থেকে রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন শ্যামল চক্রবর্তী। সম্পাদক হয়েছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। ‘৭৯ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি ছিলেন শ্যামলবাবু। ছাত্র আন্দোলন করার সময়ে দীর্ঘদিন জেলও খেটেছিলেন এই বাম নেতা। ‘পুলিশি অত্যাচারে’ মেরুদণ্ডে আঘাত ছিল গুরুতর। ছাত্র আন্দোলনের পর শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন শ্যামল চক্রবর্তী।

বামফ্রন্ট সরকারে থাকার সময়েই শিরদাঁড়ার যন্ত্রণা ভয়াণক আকার নেয়। সেই সময়ে সোভিয়েতে গিয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন এই নেতা। পরবর্তী কালে রাজ্যসভার সাংসদও হয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পিয়ারলেস হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শ্যামল চক্রবর্তী। করোনা নিয়ে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে।

বুধবার দুপুরের পর থেকেই অবস্থার অবনতি থাকে সিটু নেতার। শেষমেশ এদিন জীবনযুদ্ধে হার মানলেন ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের নেতার। করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে শ্যামল চক্রবর্তীর দেহ পরিবারকে দেওয়া হবে না। পিয়ারলেসের তরফে শব হস্তান্তর করা হবে কলকাতা কর্পোরেশনকে।

তবে শ্মশান পর্যন্ত শ্যামল চক্রবর্তীর শবদেহর ওপর থাকবে ‘লাল পতাকা’। মেডিক্যাল কলেজে দেহদান করা থাকলেও তাঁর শেষকৃত্য হবে কোভিড প্রোটোকল মেনেই।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা