ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ হওয়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমান তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করল। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিতে কেটে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই বিমানটির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর গাঙচিল বিমানের ভিতরটি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার বিমানটি বাণিজ্যিক যাত্রায় প্রথম ফ্লাইট নিয়ে রওনা করে আজ বিকেলে। সাড়ে ৫টায় আবুধাবির উদ্দেশে উড়ে গিয়েছে ‘গাঙচিল’। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বিমানটি ড্রিমলাইনার একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। অন্য বিমানের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম।

ড্রিমলাইনার গাঙচিলের ২৭১ আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড সুবিধা রয়েছে। গাঙচিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা দেবে যাত্রীদের। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউস করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে অবস্থিত বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

গত ২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে আনা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘গাঙচিল’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘গাঙচিল’। ‘গাঙচিল’ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে।

২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে এগুলোর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি ড্রিমলাইনারের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে আকাশবীণা ও হংসবলাকা যুক্ত হওয়ার পর আজ যুক্ত হলো ড্রিমলাইনার গাঙচিল। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসতে পারে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’।