কলকাতা: ভোটের আগে তৃণমূল বিরোধীতায় সক্রিয় বিমল গুরুং৷ দোলের দিন গোপণ ডেরা থেকে ভিডিও বার্তায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক জোট হয়ে লড়ার আবেদন জানালেন মোর্চা নেতা গুরুং৷ ফলে দার্জিং লোকসভার ভোট ঘিরে তৈরি হচ্ছে নানা সমীকরণ৷

এদিন দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন বিমল গুরুং৷ সেখানেই তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাহাড়ের সব দলকে মতান্তর ভুলে একজোট হওয়ার আহ্ববান জানিয়েছেন৷ জানাতে ভোলেননি তাঁর এই আবেদন পাহাড়ে গোর্খাদের আভিষ্যতের কথা বিবেচনা করে৷

মোর্চার রাশ এখন বিনয় তামাং-য়ের হাতে৷ ইতিমধ্যেই তাদের দলের প্রাক্তন বিধায়ক অমর সিং রাই জোড়-ফুলের ব্যানারে দার্জিলিং কেন্দ্রের প্রার্থী৷ শুরু হয়েছে প্রচার৷ এই পরিস্থিতিতে আর চুপ করে বসে না থেকে তৃণমূলকে হারাতে সক্রিয় গোপণ ডেরা থেকে সক্রিয় বিমল গুরুং৷

আরও পড়ুন: ‘‘কাউকে মারওয়াড়ি সমাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি’’, বিস্ফোরক সব্যসাচী

মোর্চার বিনয় পন্থীরা রাজ্যের শাসক দলকে স্বাগত জানালেও জিএনএলএফ, জনআন্দোলন পার্টি, গোর্খা লিগ তার বিরোধী৷ তাই বিমলের নজরে রয়েছেন সেই সব দলের নেতারাও৷ এদিন ভিডিও বার্তায় জিএনএলএফ,হরকা বাহাদুর ছেত্রীর জন আন্দোলন পার্টি, প্রতাপ খাতির গোর্খা লিগ, ন্যাশনাল গোর্খাল্যান্ড কমিটির সঙ্গেই সিপিএম, কংগ্রেসকেও তাদের সমর্থনের জন্য আবেদন করেছেন বিমল গুরুং৷

আরও পড়ুন: প্রচারহীন দিন, নির্ভেজাল আনন্দে বালুরঘাটের রঙে রঙিন অর্পিতা

অন্য দলের সমর্থনের পাশাপাশি পাহাড়ে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম করেও এদিন শাসক দল ছাড়ার আবেদন জানান বিমল গুরুং৷ তাঁর কথা উঠে এসেছে তৃণমূলের পাহাড় শাখার মুখপাত্র বিন্নি শর্মা, প্রাক্তন সভাপতি রাজেন মুখিয়া, মহিলা তৃণমূল পাহাড় শাখার নেত্রী সারদা সুব্বা, এমডি খাওয়াসকের নাম৷

ঘিসিং পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের ‘বেতাজ বাদশা’ এখন পলাতক৷ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা৷ পাহাড়বাসীর মনে বিমল গুরুংয়ের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়৷ এই পরিস্থিতিতে পাহাড়বাসীর জন্য গোপন আস্তানা থেকে বিমল গুরুংয়ের বার্তা, ‘‘দ্রুত ফেরৎ আসব পাহাড়ে৷’’

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রাশ এখন বিনয় তামাংয়ের হাতে৷ বিল গুরুংয়ের নেতৃত্বে ১০৫ দিনের আন্দোলনের পর পাহাড়বাসী বিরক্ত৷ ফলে আন্দোলনের রাশ হাল্কা হতেই বেপাত্তা তিনি৷ এবার পাহাড়ে পদ্ম ফোটাতেও বেগ পেতে হবে৷ বুঝতে পারচ্ছেন গুরুং৷ এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে তৃণমূলকে ঠেকাতে মরিয়া তিনি৷ কিন্তু নেই একক ক্ষমতা৷ এই প্রেক্ষাপটে তাই বাকি রাজনৈতিক দলের জোটের উপর ভরসা রাখতে চাইছেন বিমল গুরুং৷