নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিন ধরে চলছিল টানাপোড়েন। অবশেষে তিন তালাক বিল পাস হয়ে গেল লোকসভায়। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এই বিল পাস হল। এই বিল অনুসারে তিন তালাক দেওয়ার অপরাধে এক পুরুষের কারাদণ্ড হতে পারে।

তিনবার পরপর তালাক বলে ডিভোর্স দেওয়ার রীতি মুসলিম ধর্মে রয়েছে, তাকেই এই বিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। এদিন বিল পাস হওয়ার আগে যে বতর্ক চলছিল, সেইসমণ ওয়াক আউট করে নীতিশ কুমারের জনতা দল। তাদের দাবি, এই বিলের জন্য সমাজে বিশ্বাসের অভাব হবে।

মুসলিম উওমেন বিল এনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রাধান্য পাবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের ২০টি দেশ যদি তিন তালাক নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমরা পারব না কেন?’

বিরোধীদের দাবি, একটি পার্লামেন্টারি কমিটি তৈরি করে বিরোধীদের নিয়ে আলোচনা করা দরকার ছিল। কেন এত তাড়াতাড়ি এই বিল পাস করানো হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

দ্বিতীয়বার মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম বিল যেটা লোকসভায় পেশ করা হয়। এই বিলকে বারবার মুসলিম-বিরোধী বলে উল্লেখ করেন এআইএমআইএম সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

এদিন ৩০৩ ভোটে পাস হয় তিন তালাক সংক্রান্ত এই বিল। এই বিল পাস করানোর প্রতিবাদে লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করে যায় কংগ্রেসও। বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন ৮২ জন সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেসও এর বিরোধিতা করেছে।

তিন তালাকের বিরুদ্ধে প্রথম যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাওড়ার মেয়ে ইশরাত জাহান। যিনি পরবর্তীকালে বিজেপিতে যোগ দেন। সম্প্রতি, হনুমান চাল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক হয় ইরশাতকে নিয়ে। হুমকির মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।