ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : তৃণমূলের নেতারা অন্য দলের সঙ্গে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব রাখতেও ভয় পায়। এর কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি শুধুই রাজনীতি করেন, কিন্তু সৌজন্যবোধ যা আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম অঙ্গ ছিল তা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই অভিযোগ যাদবপুর থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

একটা সময় বামপন্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তৃণমূল নেতা অজিত পাঁজার সঙ্গে নাটক করেছেন আবার তাঁরাই কর্পোরেশনে জোর তর্ক করেছেন। শোনা যায় নাকি, বাংলাদেশ যুদ্ধের কিছুদিন আগে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে জ্যোতি বসুর একটা গোপন বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন। কেউ যাতে জানতে না পারে, সেই জন্য রাত এগারোটায় বৈঠকের সময় ঠিক হয়েছিল। নজর এড়াতে নিজের স্ত্রী মালা রায়ের ফিয়াট গাড়িতে জ্যোতি বসুকে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর বাড়ি ১ নম্বর সফদরজং রোডে নিয়ে গিয়েছিলেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়।

কিন্তু সেদিন গিয়েছে। সেই সৌজন্য ভেঙেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তাঁর দলের কোনও নেতাই এখন অন্য দলের নেতাদের সঙ্গে ভালো করে জনসমক্ষে কথাবার্তা বলেন না, কারণ এতে দলনেত্রীর ঘোর আপত্তি রয়েছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন , “আগে আমি , অজিতদা, কংগ্রেসের অনেকেই রাজনীতির বাইরেও আমরা বন্ধু ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। বললেই ওনার সন্দেহ হয়। ফলে সৌজন্যবোধ হারিয়েছে।” বকাঝকা খেতে পারেন দিদির থেকে সেই ভয়েও অনেকে কথা বলতে পারেন না বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে এমন কোথাও শোনা যায়।

যেমন তৃণমূলের প্রাক্তন বিজেপির বর্তমান নেতা মুকুল রায়েই দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের প্রত্যেক নেতার ফোন ট্যাপ করা রয়েছে। তৃণমূলের নেতারা পরাধীন, কারও সঙ্গেই তারা ফোনালাপ করতেও পারেন না। সম্প্রতি বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি আলুরদম খাওয়া নিয়ে ব্যাপক কানাঘুষো শুরু হয়। তিনি বিজেপিতে যোগ করতে পারেন এমন খবর এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। সেই কানাঘুষোতে চাপা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমসহ অন্যন্য নেতাদের ডেকে সব্যসাচী দত্তের ঘটনা সম্পর্কে তাঁর দলের ভাবনাচিন্তা জানিয়ে দিতে বলেন সংবাদমাধ্যমকে। সেদিন ফিরহাদ হাকিম বিধাননগরের মেয়র সম্পর্কে বলেছিলেন , “সব্যসাচী আমাকে বলেছে ওঁর ভুল হয়ে গিয়েছে।”

এই ভুলের বিষয়ে পরের দিনেই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যান সব্যসাচী দত্ত। এই বিষয় নিয়ে রাজনীতিবিদরা বলছেন , ‘ওই ভুল স্বীকারের বিষয়টি সব্যসাচী দত্তকে জোর করে বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে অর্থাৎ তাঁর দলে কোনও স্বাধীনতা নেই। একটি শহরের মহানাগরিক হয়েও তাঁকে প্রায় ক্ষমা চাইতে হয়েছে। আর এভাবেই ঘাস ফুলের অনেক নেতাই বাক স্বাধীনতা হারিয়েছে।’ বিকাশরঞ্জনবাবুর মতে দিদিমণির এই অতিরিক্ত দিদিগিরিই সামান্য সৌজন্যবোধকে নষ্ট করে দিয়েছে।

যদিও কিছুদিন আগে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট কথোপকথনের ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে দেখা গিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের খবর জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষও উত্তর দিয়েছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়ি একাধিকবার গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর অসুস্থতার খোঁজ খবর নিয়েছেন। এমনকি জ্যোতি বসুর শারীরিক অবনতির খবর পেয়েও তাঁর কাছে বহুবার ছুটে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।