কলকাতা: শরীর-মনকে সুস্থ তরতাজা রাখতে যোগাসনের বিকল্প নেই। পৃথিবীর এগিয়ে থাকা দেশগুলিতে যোগাসনের উপর নির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে। সারা দুনিয়ায় যোগাকে জনপ্রিয় করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উদ্যোগী হয়েছেন। আমাদের দেশেও নতুন করে যোগাসনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাতেও যোগাসনের ব্যবহার বাড়ছে।

প্রাচীনকাল থেকেই সভ্যতাকে যোগাসনের গুরুত্ব বুঝিয়ে এসেছেন মুনি-ঋষিরা। তাঁরা নিজেরাও যেমন নিয়মিত যোগাসন করতেন তেমনি অন্যদেরও যোগাসন করতে উৎসাহ দিতেন। পরবর্তী কালে বিজ্ঞানের যুগেও যোগাসনের প্রয়োজনীয়তা বা উপকারিতাকে কোনওভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। দিনের ব্যস্ত সময়ের ফাঁকেই ক্ষণিকের যোগাসন শরীরকে অনেক ব্যধি থেকে দূরে রাখতে পারে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তার প্রমাণও মিলেছে।

সরকারিস্তর থেকেও যোগাসনের উপকারিতা নিয়ে প্রচার বাড়ছে। শহরাঞ্চলতো বটেই মফস্বলেও ক্রমেই যোগাসন নিয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। সাড়াও মিলছে ব্যাপকভাবে। আট থেকে আশি, সকলেই দিনের ব্যস্ত সময় থেকে শরীর ফিট রাখতে যোগাসনের জন্যও বের করে নিচ্ছেন আলাদা সময়।

সারা বছরই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যোগাসন প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। যাদবপুরের অঞ্জনা যোগা ফিজিও কেন্দ্রও বহু বছর ধরে যোগাসন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সম্প্রতি তাদের ১৮তম সারা বাংলা যোগাসন প্রতিযোগিতা হয়ে গেল। সহযোগিতায় ছিল বেঙ্গল যোগা জাজেস অ্যাসেম্বলি। রাজ্যের ১৭টি জেলা থেকে ৯৮৭ জন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। যোগাসনের এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার।

প্রতিযোগিতায় মেয়েদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার প্রমিতি বর্মন। রানার আপ হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার অনুষ্কা চ্যাটার্জী। ছেলেদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হাওড়ার সোহম মুখার্জি আর রানার আপ দক্ষিণ কলকাতার দেবজিৎ চন্দ্র। যোগাসন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বসে আঁকো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। তাতে অংশ নেয় ৬৭ জন।