স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দশমীর বিসর্জন শেষে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। সঙ্গে মিষ্টিমুখ। চিরাচরিত এই রীতিতে অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে থাবা বসিয়েছে হোয়্যাটস অ্যাপ মেসেজ কিংবা টেলিফোন। তবে, দাদু-ঠাকুমাদের পা ছুঁতেই পাত সাজিয়ে মালপো-নাড়ু-নিমকি পাওয়ার স্বাদ… এককথায় অতুলনীয়। বাঙালির পাতে আজ পড়তে চলেছে রসনা তৃপ্তির বহু নমুনা। শহরের নামী-অনামী দোকানে ইতিমধ্যেই লেগে গিয়েছে মিষ্টি কেনার ভিড়।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্র একই ছবি৷ দশমীর সকাল থেকে ভিড় মিষ্টির দোকানে। সরপুরিয়া, কাঁচাগোল্লা, জলভরার মত ট্র্যাডিশনাল মিষ্টির পাশাপাশি বাজার মাতাচ্ছে বাটার স্কচ, পাইন অ্যাপেল, চকোলেট সন্দেশের মত ফিউশন মিষ্টি। তবে সবকিছুকে টেক্কা দিয়েছে ঐতিহ্যের টান।

রসগোল্লার জন্মদাতা কেসি দাশের কর্ণধার ধীমান দাসের কথায়, ‘বাঙালির সনাতন রসগোল্লা-সন্দেশের বাজার এখনও অপ্রতিরোধ্য। তবে নবীন প্রজন্ম এখন একটু ভ্যারাইটি খোঁজে। সে জন্যই আমরা উপস্থাপনার ধরনটা বদলে দিই।’ যেমন গন্ধরাজ, ব্ল্যাক-কারেন্ট ও চকোলেট ফ্লেভারের রসগোল্লা। থাকছে ত্রিনয়নী নামের একটি রসের মিষ্টি যার সন্দেশের মতো উপরিভাগে থাকছে জাফরান, স্ট্রবেরি ও চকোলেট ফ্লেভারের তিনটি চোখ।

নিরানব্বই বছরের পুরোনো সতীশ ময়রায় কর্ণধার সম্রাট ময়রাও জানিয়েছেন, দশমীতে সাবেক মিষ্টির চাহিদাই বেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দোকানে গত সত্তর বছর ধরে বিজয়ায় গজা-মিহিদানা উৎসব হয়। ফিউশন মিষ্টিও রাখি। তবে এদিনটার জন্য লোকজন একটু ট্রাডিশনাল মিষ্টিই খোঁজে।’ সন্দেশের জন্য বিখ্যাত ভীমনাগেও থাকছে অন্তত ত্রিশ রকমের সন্দেশ।

সংস্থার অন্যতম অংশীদার প্রদীপচন্দ্র নাগ বলছেন, ‘ এবারের চমক কমলালেবুর শাঁস দিয়ে তৈরি অরেঞ্জ-বল সন্দেশ। থাকছে জাফরানের বাদশাভোগ আর পেস্তার বসন্তবাহার সন্দেশও।’ হেঁদুয়ার নকুড়ের (গিরিশচন্দ্র দে অ্যান্ড নকুড়চন্দ্র নন্দী) দোকানও তাদের বিখ্যাত পারিজাত সন্দেশের বিক্রি থেকে বিন্দুমাত্র ফোকাস সরাতে চান না৷ নকুড়ের চতুর্থ প্রজন্ম পার্থ নন্দী জানাচ্ছেন, এবারে তাঁদের নয়া চমক কেশর কাঁচাগোল্লা যা কেশর আর পেস্তার মিশ্রণে তৈরি আদি ও অকৃত্রিম কাঁচাগোল্লাই।

এছাড়া রোস্টেড কাঠবাদামের সন্দেশ বাদামির কাটতিও বেশ ভালো। সাধ্যের মধ্যেই স্বাদ পূরণের জন্য তৈরি ছোট-বড় সব মিষ্টির দোকানগুলো। দোকানে কুচো গজা, ছানার মুড়কি, বোঁদে দেখে উত্তর কলকাতার এক মিষ্টির দোকানের ক্রেতা বললেন, ‘এখানে এগুলো পাব আশা করিনি। এখন তো মিষ্টির দোকানগুলো এসব বানায় না। প্লেটে কুঁচো নিমকির সঙ্গে এই মিষ্টিগুলো না সাজালে কি আর বিজয়ার মিষ্টি মুখ সম্পুর্ন হয়?’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.