রায়পুর: ফের পোশাক ফতোয়া৷ এবার সরকারি কর্মীদের৷ যা ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে৷

জিনস, টি-শার্ট নৈব নৈবচ৷ ফর্মাল পোশাক পড়ে আসতে হবে অফিসে৷ তবেই মিলবে কাজ করার সুযোগ৷ এমনটাই নির্দেশ কংগ্রেস পরিচালিত ছত্তিশগড়ের বীজাপুর জেলা কালেক্টরেটের৷ নির্দেশ না মানলেই পড়তে হবে শাস্তির মুখে৷

সরকারি এই নির্দেশ ঘিরে সরকারি কর্মী মহলে ক্ষোভ দানা বাধছে৷ তবে এখনও প্রকাশ্যে বিদ্রোহের আঁচ নেই৷ কর্মচারীদের যোগ্যতা তাদের কাজে বিচার হবে, নাকি পোশাকে? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে৷

আরও পড়ুন: রিয়েল ফিলে দিল্লিকে টেক্কা দিচ্ছে কলকাতা

মঙ্গলবারই ছত্তিশগড়ের বীজাপুর জেলা প্রশাসনের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়৷ যেখানে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের ফর্মাল পোশাক পড়তে হবে৷ জিনস, টি-শার্ট তো নয়ই৷ এমনকী পড়া যাবে না চড়া রঙের কোনও পোশাকও৷ যার অর্থ, জেলা প্রশাসনের কর্মীদের ছিমছাম পোশাকে কলম পিশতে হবে সরকারি দফতরে৷

গত কয়েক মাস ধরে জেলা প্রশাসনের কর্মীদের পোশাকের উপর নজর রাখেছিলেন বীজাপুরের জেলা কলেক্টর৷ তাঁর অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি৷ তিনি লক্ষ্য করেছেন, বড় থেকে ছোট- অধিকাংশ কর্মীই অফিসে আসছেন ইন-ফর্মাল পোশাকে৷ তারা অফিসে আসছেন, নাকি ঘুরতে তা বোঝা দায়৷ বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে নেন নি জেলা কালেক্টর কে ডি কুঞ্জম৷

আরও পড়ুন: উপত্যকায় জঙ্গি দমনে বিশেষ সাফল্য পেল বাহিনী

জেলা প্রসাসনের নির্দেশিকায় তোপ দাগা হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের৷ তাদের নির্দিষ্ট পোশাক রয়েছে৷ আইন অনুয়াযী সেই পোশাক পড়ে কাজ করাই নিয়ম৷ কিন্তু কে কার কথা শোনে৷ পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ অর্থ পেলেও নির্দিষ্ট পোশাক পড়েন না বেশিরভাগই৷ অথচ পোশাক পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ অর্থ বুঝে নেন করায়-গন্ডায়৷ কালেক্টর জানিছেন এই সব আর চলবে না৷ নির্দেশিকা না মানলেই ‘লাল কার্ড’৷

এই প্রথম নয়৷ ছত্তিশগড়ের বীজাপুর জেলা প্রশাসনের আগে একই ফতোয়া জারি করেছিল তামিলনাড়ু সরকার৷ যেখানে তামিল আবেগকে পুঁজি করা হয়৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সরকারি কর্মীদের পোশাকে যেন তামিল ও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়৷ অফিসের সংস্কৃতির তাতেই বজায় থাকবে৷ কাজে উৎসাহ বাড়বে৷

বাংলাতেই প্রায়ই শোনা যায় পোশাক ফতোয়ার খবর৷ প্রাথমিক বা সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষিকাদের পোশাক ঘিরে শুরু হয় অভিভাকদের বিক্ষোভ৷ তালিকায় নাম থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষেরও৷ পোশাকেই কী পরিচয়৷ শালিনতা বজায় রেখে যুগপোযোগী পোশাক পড়লে তাতে আপত্তি কোথায়? বিতর্ক হয়েছে বহুবার৷ কিন্তু তা যেন অন্তহীন যাত্রার মতো৷