পাটনা : খাদ্যপণ্য থেকে ইথানল তৈরি করবে বিহার। এমনটাই জানা যাচ্ছে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে। ভুট্টা, গুড়, ভাঙা চালের দানা, পচে যাওয়া সস্য এসবগুলোই আর নষ্ট করা হবে না। রিসাইকেল করে তৈরি করা হবে ইথানল। এই কাজ শুরু হলে বিহারই হবে প্রথম রাজ্য যারা এই কাজে হাত দেবে। মূলত পেট্রোপন্যের দাম কমানোই এর লক্ষ্য।

রাজ্য ক্যাবিনেট থেকে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে বুধবার। বিহার বিধানসভায় তা পেশ করা হয়েছে। এবার বিধানসভায় তা পাশ হয়ে গেলেই সেই কাজ শুরু হবে। প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় সরকার অনেক আগেই সরাসরি ইথানল তৈরির অনুমতি দিয়েছে। ২০১৮ সেই অনুমতি মিলেছিল, এবার সেই কাজ শুরু করতে চলেছে বিহার সরকার তবে অন্যভাবে। এই কাজে যে সব ব্যাবসায়ী বিনিয়োগ করবেন তাঁরা সরকারের থেকে ১৫ শতাংশ ভরতুকি পাবেন। অর্থের নিরিখে যা বলা হচ্ছে ৫ কোটি টাকা কেউ যদি এইভাবে ইথানল তৈরির কাজে বিনিয়োগ করেন তাহলে তিনি ১৫ শতাংশ ভরতুকি পাবেন সরকারের থেকে। স্ট্যাম্প ডিউটি, জমি হস্তান্তর, ইলেক্ট্রিসিটি, স্কিল ডেভলপমেন্ট, এমপ্লয়মেন্টের ক্ষেত্রে আগেই সরকার ছাড় দিয়ে রেখেছে এবার আরও ছাড় দেওয়া হবে এই পদ্ধতিতে ইথানল তৈরি করলে। কিন্তু এই ইথানল তৈরি করে লাভ কী হবে। আসলে এটি জৈব জ্বালানি তৈরি করতে কাজে লাগে। পেট্রোপণ্যের যে হারে দাম বাড়ছে সেখানে সেখানে জৈব জ্বালানির তৈরির দিকে নজর দিতেই হচ্ছে। তাই এই পথে এগোচ্ছে বিহার রাজ্য সরকার।

জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ইথানল অনেক বেশি পরিবেশ-বান্ধব এবং আর্থিক দিক থেকে সাশ্রয়কারী। তাই ইন্টারনাল কমবাসচন ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসাবে একক ভাবে বা অন্য‌ জ্বালানির সঙ্গে মিশিয়ে ইথানল ব্য‌বহার করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। মোটরগাড়িতে ইথনালের ব্য‌বহার ইন্টারনাল কমবাসচন ইঞ্জিন আবিষ্কারের সময় থেকেই চলে আসছে। ১৮৯৭ সালে নিকোলাস এ অটো প্রথম ইঞ্জিনের কাজকর্ম নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে ইথানলকে জ্বালানি হিসাবে ব্য‌বহার করে সাফল্য‌ পান। ১৯২০ থেকে ব্রাজিল ইথানলকে এই ধরনের জ্বালানি হিসাবে ব্য‌বহার করছে।

যে কোনও মাত্রার দ্রবণে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানলের সংমিশ্রণ ঘটানো যায়। এমনকী ১০০ ভাগ খাঁটি ইথানলেও পেট্রোল মেশান যায়। অ্য‌ানহাইড্রাস ইথানল বা জলবিহীন ইথানলকেও পেট্রোলের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় মিশিয়ে পেট্রোলজাত জ্বালানির ব্য‌বহার কমানো যায়। সেই সঙ্গে বায়ু দূষণের পরিমাণও কমে। সাধারণ পেট্রোলের ক্ষেত্রে ইথনাল অক্সিজেনেট অ্য‌াডিটিভের কাজ করে। আগে এই কাজে মিথাইল টি-বুটা ইথার (এমটিবিই) ব্য‌বহার করা হত। কিন্তু এই পদার্থটি মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের দূষণের অন্য‌তম কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ইথানল বায়োডিজেল উৎপাদনের কাজেও ব্য‌বহার করা যায়। অ্য‌ালকোহল জাত জ্বালানি ইথানল গুণগত দিক দিয়ে বেশ উন্নত, ইঞ্জিনের অসাধারণ কাজের ক্ষেত্রে হাই অক্টেন জ্বালানি। ইথানল ব্যবহারে ধোঁয়া নির্গমন কম হয়। হেনরি ফোর্ড ১৯০৮ সালে মডেল-টি গাড়ি বাজারে আনার পরই জ্বালানি হিসাবে অ্য‌ালকোহল তথা ইথানলের ব্য‌বহার শুরু হয়।

পাশাপাশি ১১৩ অক্টেন রেটিং নিয়ে ইথানল এখন বাজারে সবচেয়ে বেশি গুণমান সমৃদ্ধ জ্বালানি। এর ব্য‌বহারে আজকাল হাই কম্প্রেশন ইঞ্জিন অত্য‌ন্ত মসৃণ ভাবে চলে। ইথানল অনুর মধ্য‌ে অক্সিজেন রয়েছে, ফলে জ্বালানি সম্পূর্ণ ভাবে পুড়িয়ে দিতে তা সহায়ক। খুবই অল্প পরিমাণ ধোঁয়া নির্গমন হয়। ইথানল গাছ থেকে পাওয়া যায়। ফলে তাতে সৌরশক্তি নিহিত রয়েছে। তাই ইথানলকে পুনর্ব্য‌বহারযোগ্য‌ শক্তি হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। জ্বালানি ব্য‌বস্থাটিকে পরিষ্কার রাখে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি। জ্বালানি ব্য‌বস্থায় কোনও চটচটে আঠার মতো পদার্থ জমা হয় না। ফলে জ্বালানি পূর্ণমাত্রায় ব্য‌বহার করা সম্ভব হয়। ইথানল শীতকালে গ্য‌াস লাইন অ্য‌ান্টি ফ্রিজ হিসাবে কাজ করে। ফলে এই সময় জ্বালানি জমে যাওয়ার সঙ্কট থাকে না।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.