পাটনা: নির্মম সত্য৷ অস্বীকার করে উপায় নেই৷ সত্যি তো! মেয়েকে বাঁচিয়ে কী লাভ? কোন কাজে লাগবে সে? ভাবছেন এই প্রশ্ন কে তুলছে? তাহলে জানাই এই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মেয়েটির বাবা মা৷ একমাত্র কন্যা সন্তান বিহারের সরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে৷ দুটো কিডনিই তার অকেজো৷

আর এই পরিস্থিতিতে মেয়েটির পাশে নেই তার বাবা মাও৷ তাঁদের সাফ কথা মেয়েকে বাঁচিয়ে কী হবে? শুধু টাকা নষ্ট৷ ছেলে হলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে দেখতেন৷ হ্যাঁ এটা ২০১৯ সাল৷ চাঁদে মানুষ পাঠানো হয়েছে৷ মঙ্গল অভিযানও সেরে ফেলা গিয়েছে৷ একটি শিশু কন্যা মরতে বসেছে শুধু সে মেয়ে বলে৷ তবু মেয়ে আর ছেলের প্রভেদ মেটানো যায়নি এই সমাজ থেকে৷

বিহারের শেখপুরা জেলার সদর ব্লকের অবগিল গ্রামের কাঞ্চন কুমারি৷ মাধ্যমিক পাশ করেছিল প্রথম বিভাগে৷ তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে৷ নানা পরীক্ষানিরিক্ষার পরে জানা যায় দুটো কিডনিই অকেজো তার৷ ভরতি করা হয় পাটনার ইন্দিরা গান্ধী ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে৷ হ্যাঁ, পরিবারের হাতে সেই অর্থে আর্থিক ক্ষমতা নেই৷ তাই তাকে স্থানান্তরিত করে ভরতি করা হয় স্থানীয় সদর হাসপাতালে৷

আরও পড়ুন : খেলার ছলে অঙ্ক-ইংরেজি শেখাতে শেখাতেই বিলিয়নেয়ার এই ভারতীয়

তবে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য চাই প্রচুর টাকা৷ সেই টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয় বিহারের ওই দম্পতির পক্ষে৷ তবে তাদের সাফাই অবাক করেছে সংবাদমাধ্যমকে৷ তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ছেলে হলে এই পরিমাণ টাকা যোগাড় করার চেষ্টা করতেন তাঁরা৷ কিন্তু এতো মেয়ে৷ কী হবে ওকে বাঁচিয়ে, এত টাকা নষ্ট করে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? কে বোঝাবে সেই বাবা মাকে, যাদের কাছে নিজের সন্তানই ব্রাত্য৷

এখন কোনও চিকিৎসাই হচ্ছে না মেয়েটির৷ বাবা মা কিডনি দিয়ে হয়তো বাঁচাতে পারতেন মেয়েটিকে৷ কিন্তু সেখানেও আপত্তি তাদের৷ কেন দেবেন তারা তাদের মেয়েকে বাঁচানোর জন্য নিজের কিডনি? সেতো মেয়ে৷ বাঁচিয়ে কি লাভ?

আরও পড়ুন : সুগার থেকে কোলেস্টেরল: এক চামচ চিয়া বীজেই হবে উধাও

সবথেকে অবাক করার মত বিষয়, এই দম্পতি কোনও সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেননি, এমনকী কারোর থেকে কোনও সাহায্যও চাননি৷ এই ঘটনায় পাশে দাঁড়ায় মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল ট্রাস্ট৷ কিন্তু এই নিয়ে সেখানেও কোনও আবেদন জমা পড়েনি বলে খবর৷

তাহলে কি বাবা মা চাইছেনই না তাদের মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠুক? প্রশ্ন এটাই৷ তবে উত্তরটা জানা হলেও মন বিশ্বাস করতে চায় না৷