স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: অবশেষে বিহারের মন্ত্রী নিজেই আত্মসমর্পণ করলেন রামপুরহাট আদালতে৷ তারাপীঠে হোটেলে ঢুকে হোটেলের কর্মীদের সঙ্গে বচসা বাধে৷ এমনকি কর্মীদের মারধোর করে ও হুমকিও দেন তিনি৷ এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিহারের নগর উন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রী সুরেশ শর্মা রামপুরহাট আদালতে জামানত নামা জমা দিয়ে জামিন সুনিশ্চিত করলেন।

জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সপরিবারে তারাপীঠে পুজো দিতে এসেছিলেন মন্ত্রী সুরেশ শর্মা৷ প্রথমে তারাপীঠের একটি নামী হোটেলে অনলাইন রুম বুক করেন তিনি৷ পরে ওই রুম না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷ তিনি বুক করা ওই হোটেলে গিয়ে হোটেল কর্মীদের কাছ থেকে হোটেলের ভাড়া চান৷

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞাকে থোড়াই কেয়ার, দশমীতে আজও নীলকন্ঠ পাখি ওড়ে এখানে

এরপরেই হোটেল কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পরেন তিনি৷ হাতাহাতি, মারধরের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে৷ তার পরিপ্রেক্ষিতে রামপুরহাট আদালতে মামলা দায়ের করে হোটেল কর্তৃপক্ষ৷ দিন কয়েক আগে সিউড়ি জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। মামলাটি রুজু হয়েছিল নিম্ন আদালতে৷ জেলা আদালতের নির্দেশ মোতাবেক এদিন তিনি রামপুরহাট আদালতে তার জামিন সুনিশ্চিত করেন।

সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি জানান, বিগত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি হোটেল আসেন সুরেশ শর্মা। তাঁর বন্ধুরা অন্য হোটেলে বিকল্প ব্যবস্থা করেন৷ তাই তিনি ওই হোটেলে থাকতে চাননি৷ অগ্রিম বুকিং বাবদ দেওয়া অর্থ ফেরত চান তিনি। কিন্তু হোটেলের তরফে ম্যানেজার প্রমোদ মান্না জানান সেই অর্থ স্পটে দেওয়া যাবে না। যেহেতু অন লাইনের বুকিং করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কেরলবাসীকে ১ লক্ষ টাকার চেক অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের

আগে অনলাইনে বুকিং বাতিল করতে হবে। সেই উত্তরে সন্তুষ্ট হননি মন্ত্রী। অভিযোগ, তাতেই উত্তেজিত হয়ে সুরেশ শর্মা এবং তাঁর সঙ্গী সাথীরা প্রমোদ মান্নাকে মারধর করতে যান। কিছু জিনিসপত্র নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগও করেন। তারপর প্রমোদ মান্না তার ভিত্তিতেই, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৫/ ৩৭৯/ ৩০৭/ ৪২৭/ ৫০৬ ধারায় রামপুরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলার আগাম জামিন পেতে ২৪ সেপ্টেম্বর সিউড়ি জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। সেই জামিন নিয়মিত আদালতে নিশ্চিত করার জন্য এদিন সুরেশ শর্মা আদালতে সশরীরে এসে আত্মসমর্পণ করেন। বিচারক জেলা আদালতের নির্দেশ মোতাবেক সেই জামিন শর্ত সাপেক্ষে মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: সুজিতের ‘বায়না’ মেটাতেই পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধনে মমতা

হোটেল ম্যানেজার সুনীল গিরি জানান, এসেই হঠাৎ মন্ত্রী এবং তার নিরাপত্তারক্ষীরা টাকা ফেরত চান। কিন্তু অনলাইনে বুকিং-এর ক্ষেত্রে নগদ ফেরত হয় না। এই কথা তাকে জানানো হয়৷ তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। খাতাপত্র ছিঁড়ে দেয়। হোটেলের সমস্ত কর্মীরা তাদের তাড়া করলে গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।

আরও পড়ুন: শহরে বাড়াতে হবে মহিলা নিরাপত্তা, দাবি যুব কংগ্রেসের

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ