পাটনা: এই বছরের শেষের দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। উন্নয়নমূলক কাজের উপর ভর করেই বিহারের নির্বাচনে আবারও সাফল্য পাবে গেরুয়া শিবির, আশাবাদী বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ক্রমেই ফিকে দেখাচ্ছে গেরুয়াকে। পাশাপাশি শক্তি বাড়াচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলি। এমনকী সাম্প্রতিক দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও হালে পানি পায়নি বিজেপি। ৭০টির মধ্যে মাত্র ৮টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পদ্ম-শিবিরকে। তাই আসন্ন বিহার ভোটে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ বিজেপি। বছর শেষের ভোটের তৎপরতা শুরু বছর শুরুতেই।

শনিবার বিহারে দলের মোট ১১টি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। দলের নেতা-কর্মীদের প্রযুক্তির ব্যবহার করতে বলেন নাড্ডা। বিহারের উপরে নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ রয়েছে বলে মত নাড্ডার। একইসঙ্গে আগামীদিনেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন সব সাহায্য করতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে চেষ্টার কোনও কসুর করা হবে না বলে বিহারে দলীয় নেতৃত্বকে জানান নাড্ডা।

নাড্ডার দাবি, কেন্দ্র পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য দিয়েছে বিহার সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার রাজ্যের উন্নয়নে সেই বকেন্দ্রীয় বরাদ্দও যথাযথভাবে খরচ করেছেন। তবে, জাতীয় রাজনীতিতে সিএএ, এনআরসি ইস্যুতে বিরোধীদের উপর্যুপরি আন্দোলনের জেরে এই মুহূর্তে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে গেরুয়া শিবির।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্র-বিরোধী বিক্ষোভ রুখতে পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়। গত কয়েকটি নির্বাচনে সেই বিষয়টিও বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে মত অনেকের।

এবার তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জম্মু কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং তিন তালাক বাতিল নিয়ে যাতে বিহারের জনগণের কাছে কোনও ভুল তথ্য না যায় সেদিকে নজর দিতে বলেছেন নাড্ডা। উলটে তিন তালাক বাতিল ও ৩৭০ ধারা বাতিল ইস্যু নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সদর্থক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন নাড্ডা।