বিহার: বিহারে ক্রমশ মহামারির আকার ধারণ করছে এন্সেফেলাইটিস। রাজ্যের ১২ টি জেলার ২২২ টি ব্লকে মারণ রোগের আকার নিয়েছে এই রোগ। এবার এই মহামারি নিয়ে মুখ খোলায় রাজ্যের ৩৯ জন গ্রামবাসীর নামে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। ঘটনায় সমগ্র বিহার জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।

বিহারের মুজাফফরপুর, বৈশালী, সেওহার, এবং পূর্ব চম্পারণে এই মারণ রোগ মহামারির আকার নিয়েছে। ক্রমাগত বেড়ে চলা এন্সেফেলাইটিস সমস্যা নিয়ে মুখ খোলায় বৈশালী জেলা থেকে বহু সাধারণ মানুষকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে বিহারের বৈশালী জেলার হরিবংশপুর গ্রামের ৩৯ জন গ্রামবাসীর নামে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। মঙ্গলবার পানীয় জলের পরিষেবার ঘাটতি এবং এলাকায় এন্সেফেলাইটিসের দরুন অগণিত শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। এলাকাটির স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

২০ জুন পর্যন্ত, এআইএস বিহারে মূলত মুজাফফরপুরে ১১৭ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আতঙ্কে গ্রামের লোকজন তাদের শিশুদের অন্য গ্রামে রেখে আসছেন মারণ রোগ থেকে বাঁচতে। পাটনার IGIMS এর রিসার্চ সেলের প্রাক্তন ডিন এবং পাটনার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের প্রাক্তন বিজ্ঞানী ডা. প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, “AES সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে প্রধান লক্ষণ হয়ে দাঁড়ায় ভারী জ্বর। স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসাধনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এই রোগ। তারপরই কোমায় চলে যান আক্রান্ত ব্যক্তি। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।”

লিচু থেকে এই রোগ ছড়াচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। লিচুর জাতীয় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকের দাবি, বিহারে অনেক শিশু মারা যাওয়ার জন্য লিচু দায়ী। এফআইআর দায়ের হওয়া গ্রামবাসীদের আত্মীয়রা বলেন, “আমাদের সন্তানেরা মারা গিয়েছেন। আমরা পথ অবরোধ করেছি। কিন্তু প্রসাশন আমাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে তারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের শুধু বেঁচে থাকার চাহিদা ছিল।”