প্রসেনজিৎ চৌধুরী: নৌকরি! এই একটি শব্দে বিহারের নির্বাচন তুমুল আকর্ষক।

যুযুধান দুই শিবির শাসক এনডিএ ও বিরোধী মহাজোট বিপুল চাকরির অফার দিয়েছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পত্রে। এনডিএ দিয়েছে ১৯ লক্ষ আর মহাজোটের দাবি ক্ষমতায় এলেই ১০ লক্ষ চাকরি পাকা।

সরকার ও বিরোধীদের দেওয়া চাকরি প্রতিশ্রুতির মিলিত সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২৯ লক্ষে। সাম্প্রতিক সময়ে এত বড় মাপের চাকরি(নৌকরি) অফার আর কোনও রাজ্যের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে আসেনি। ফলে পুরো বিহার নির্বাচনের পরেই বিপুল পরিমাণ চাকরির ফুলঝুরি ফুটবে নাকি সবই প্রতিশ্রুতি হয়েই থাকবে তার উত্তর ‘বাদ মে দেখা যায়গা।’

নির্বাচনী ঘোষণা এনডিএ শরিক বিজেপির আরও দাবি ক্ষমতায় টিকে থাকলে করোনাভাইরাসের টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ হবে। বিতর্কিত এই দাবিতে অনড় বিজেপি। যদিও অপর শরিক জেডিইউ এমন কোনও দাবি করেনি। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই বিষয়ে নীরব। বিরোধী মহাজোটের প্রধান শরিক আরজেডি সহ বাকিদের অভিযোগ মহামার্কিন মাঝে টিকা নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।

এছাড়াও বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরও একটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। ভাবা গিয়েছিল করোনাভাইরাসের মহামারি চলায় এবারও শান্তিতেই হবে বিহারের ভোট। তবে যা ভাবা হয়, তা সবসময় হয় না। প্রথম দফার ভোটের আগেই বারে বারে রক্তাক্ত হয়ে পুরনো ছন্দে ফিরছে বিহার। পাটনা, আরা, মুঙ্গের, জামুই, পূর্ণিয়া, শিবহর জেলা রক্তাক্ত। জেডিইউ প্রার্থীদের খুন করা হয়েছে, কোথাও নির্দল নেতা খুন, মাওবাদীদের সঙ্গে কোবরা বাহিনির লড়াই এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ সবই দেখা গিয়েছে।

অন্তত গত কয়েকটি ভোটে বিহার তাক লাগিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের হাসি চওড়া হয়েছে তাতে। প্রশ্ন উঠছিল, বিহারের ভোট যদি শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হয় না? এই প্রশ্নে বাংলার রাজনীতি বারে বারে সমালোচিত হয়। এবার বিহাহাকিম বিধানসভা ভোট ঘিরে কমিশন চিন্তায়।

বুধবার বিহার বিধানসভার মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ৭১টি আসনের ভোট। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। পাটলিপুত্রের মহারণভূমিতে এনডিএ ও মহাজোট মুখোমুখি।

এনডিএ শিবিরে আছে জেডিইউ,বিজেপি ও হাম পার্টি। প্রধান বিরোধী মহাজোটে আছে আরজেডি, কংগ্রেস ও তিন বামদল (সিপিআই এমএল, সিপিআই, সিপিআইএম)। এছাড়াও আরও দুটি জোট রয়েছে নির্বাচনে। তবে মূল লড়াই এনডিএ এবং মহাজোটের।

বিহারের নির্বাচনের আগে করোনা হামলায় লকডাউন ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার মর্মান্তিক ছবি দেখেছিল গোটা দেশ তথা দুনিয়া। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগ বিহারের। তাঁদের ক্ষোভ কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয় তারই উত্তর মিলবে বিহারে।

আরও স্পষ্ট করলে হয়, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে টানা শাসন থাকবে নাকি বিরোধী মহাজোটের হাতে ক্ষমতা চলে যাবে তারই উত্তর দেবেন বিহারবাসী।

তিন দফার ভোট পর্বে মোট 7,29,27,396 জন বিহারবাসী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।