পাটনা: ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি। উদ্বেগে দিন কাটাছে বিহারের সাধারণ মানুষ। বন্যা গ্রাস করেছে বিহারের রাজধানী শহর পাটনাতেও । জানা গিয়েছে, বিহারের বন্যা পরিস্থিতির জন্য একদিকে যেমন অকাল নিম্মচাপ দায়ী অন্যদিকে গঙ্গা ও ঘর্ঘরা নদীর জলস্তর বাড়ায় ফের নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে এই রাজ্যে। এদিকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলেননা বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদীও।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং বন্যার কারনে বিহার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক পৃথক ভাবে এখনও পর্যন্ত সাতাশ জন মানুষ মারা গিয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী পাটনা।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হাঁটুর উপরে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয় বন্যার কারনে নতুন করে কোনও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি যাতে না হয় তার জন্য বিহারের বিভিন্ন জেলায় রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে বন্যার কারনে রাজ্যে প্রায় দু-লাখের উপরে মানুষ ইতিমধ্যে ঘর ছাড়া হয়েছে। বন্যার জল ঢুকেছে পাটনার রাজেন্দ্র নগরে বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বাড়িতেও।

জানা গিয়েছে, পাটনার অধিকাংশ স্থানই জলমগ্ন। বন্যার জন্য নিজের বাড়িতে পরিবার নিয়ে আটকে পড়েন উপ মুখ্যমন্ত্রী। পরে তাকে এবং তার পরিবারকে রাজ্যপুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের সহযোগিতায় উদ্বার করে আনা হয় বলে জানা গিয়েছে। সোমবার একটি নৌকায় করে রাজ্যপুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে তার বাড়ি থেকে উদ্বার করে আনা হয় উপমুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে। জানা গিয়েছে, যে নৌকা করে উপ মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্বার করা হয়েছে সেটিতে করে পাটনার আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্বার করে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বন্যার ফলে জল ঢুকেছে পাটনার একাদিক বেসরকারি হাসপাতালে, ওষুধের দোকানগুলিতেও জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিহার রাজ্যের নালন্দা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালও। প্রসঙ্গত, নালন্দা মেডিকেল কলেজ হল পাটনা শহরের দ্বিতীয় বৃহত্তম হেলথ কেয়ার হাসপাতাল।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জানিয়েছেন, এবারের বন্যায় সব থেকে ক্ষতি হয়েছে পাটনায়। হাঁটুর উপরে জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে পাটনার বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলি। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে একাধিক ট্রেনও। এদিকে সোমবার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি আমদ কুমার সারেন জানিয়েছেন, বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জলমগ্ন এলাকা গুলি থেকে জল নামেনি। এরই মধ্যে আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় বিহার সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়াও আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় বিহার রাজ্যের মোট চব্বিশটি জেলায় আরও বৃষ্টির পরিমান বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।