ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: সকাল সকাল দেখা গেল তাঁকে৷ ভোট দিতে পাটনায় নিজের বুথে হাজির হলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন নীতীশ৷ নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ আবেদন রাখলেন তিনি৷

বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আরজি, সাত দফা নয়৷ এবার ভোট হোক আরও কম সময় ধরে৷ এত দীর্ঘ সময় নিয়ে ভোট করানোর অর্থ ভোটারদের কষ্ট দেওয়া৷ তাই দুটি দফার মধ্যে সময় আরও কমিয়ে আনা উচিত৷ ফলে এক মাসের মধ্যেই সারা দেশে ভোট করানো সম্ভব হবে৷

ভোটারদের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নির্বাচন কমিশনের বলে মত নীতীশের৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মত নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করার পরেই সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি৷ দুটি দফার মধ্যে এত লম্বা সময়ের পরিসর অপ্রয়োজনীয়৷ তা কমিয়ে আনলেই ভোটারদের সুবিধা বলে মনে করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী৷ এই ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনে কথা বলবেন তিনি বলেও জানান৷

এদিন তিনি মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন৷ তিনি বলেন মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলে সাধ্বী বড়সড় ভুল করেছেন৷ বিজেপির উচিত দলের মধ্যে থেকেই তাঁকে শাস্তি দেওয়া৷ এই ধরণের মন্তব্য বিজেপির ভাবমূর্তির ক্ষতি করে৷ তাই কোনও ভাবেই এই ধরণের মন্তব্যকে ছোট করে দেখা উচিত নয়৷

উল্লেখ্য, নাথুরাম গডসে বিতর্কে দলকে পাশে পাননি ভোপালের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা৷ ক্ষমা চেয়েও বরফ গলেনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ সাধ্বীকে মন থেকে ক্ষমা না করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন মোদী৷ এবার ভোপালের বিজেপি প্রার্থীকে দল থেকে তাড়ানোর দাবি তুললেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷

রবিবার পাটনায় ভোট দেন নীতীশ কুমার৷ তাঁর কাছে সাধ্বী প্রজ্ঞার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়৷ জবাবে এনডিএ’র সহযোগী দল জেডি(ইউ)র নেতা বলেন, ‘‘এই ধরনের মন্তব্যের নিন্দা করছি৷ বিজেপির এখন ভাবা উচিত৷ এটা বাপুর দেশ৷ অপরাধ, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই এখানে৷ বিজেপির উচিত সাধ্বী প্রজ্ঞাকে দল থেকে বহিস্কার করার৷’’

এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ দফার আগে নীতীশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন লালু৷ বলেন বিহারের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন নীতীশ৷ নিজের ফেসবুক পেজে এই খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন জেলবন্দি আরজেডি প্রধান৷ নীতীশকে ছোট ভাই বলেও চিঠিতে সম্বোধন করেন লালু৷

আরজেডি প্রধান জনতা দল ইউনাইটেডের প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন৷ একটি তীর রয়েছে এই প্রতীকে৷ লালুর সরস মন্তব্য আরজেডি নিজেদের লণ্ঠন নিয়ে যখন রাজ্য থেকে অশিক্ষা, বেকারি, দারিদ্য দূর করতে চাইছে, তখন জেডিইউ-র চিহ্নটি হিংসা ও বিদ্বেষের দিকেই দিক নির্দেশ করছে৷