দেবময় ঘোষ, কলকাতা: টলি পাড়ায় গেরুয়া ঝড় শুরু হলো বলে। আগামী কয়েক মাসে টলিউডের ৭২ জন শিল্পী বিজেপির পতাকা হাতে তুলতে চলেছেন। বিজেপির ‘টলিউড অভিযানের’ সূচনা হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবারই। দিল্লিতে বিজেপির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের কেন্দ্রীয় দফতরে গিয়ে পার্টিতে যোগ দিয়েছেন টলিউডের একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রী।

রয়েছেন, টেলিভিশন ও রূপোলি পর্দার চেনামুখ মৌমিতা গুপ্ত, রূপা ভট্টাচার্য, রূপাঞ্জনা মৈত্র, কাঞ্চনা মৈত্র, সৌরভ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, ঋষি কৌশিক, পার্ণো মিত্র, লামা সহ আরও অনেকে৷ তবে, যোগদানের এই পর্ব এই সবে শুরু – বলছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির হাতে যে তালিকা রয়েছে , তাতে মোট ৭২ জন শিল্পীর নাম আছে। রয়েছেন টলিউডের সেরা নায়কদের বেশ কয়েকজন।

তবে, সেই নায়ক-নায়িকারা বাক্তিগতস্তরে তাঁদের নাম প্রকাশ না করার ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু সেই কারণেই, বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “টলিউডের যোগদান পর্ব লাগাতার চলবে। সেলিব্রিটিদের নামের বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা তো করতেই হবে। তবে আমাদের কাছে যে তালিকা রয়েছে , তাঁদের বেশিরভাগই সিনেমা বা টিভি সিরিয়ালের অভিনেতা বা অভিনেত্রী।”

যা খবর, লোকসভা নির্বাচনে ফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই টলি পাড়ার কুশলীরা গেরুয়া শিবিরে যোগাযোগ শুরু করেন। তাঁদের নামের তালিকাও তৈরি হয়েছিল। সেই মতোই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে টলিউড চিত্র তারিকদের যোগদান করিয়ে চমক দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির যে শীর্ষ নেতারা বিষয়টি দেখছেন, তাঁদের একজনের বক্তব্য, এই অভিনেতা – অভিনেত্রীরা কোনও শাখা সংগঠনে যোগ দিচ্ছেন না। সরাসরি পার্টিতে যোগদান করছেন। দলের হয়েই প্রচার করতে চান এরা। আগামীদিনে দলের ঝান্ডা হাতেই এদের দেখা যাবে।

এদের মধ্যে অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২১ জুলাই মঞ্চেও দেখা গিয়েছে। আবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিজেপিতে , চিত্র তারকা নেতানেত্রী হিসাবে সব থেকে যাবে আসে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম। টলিউড ছেড়ে লকেট সক্রিয় গেরুয়া রাজনীতিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে লড়াই করে আপাতত বিজেপির হুগলির সাংসদ।

এছাড়া রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী। অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছেন। টলিউডে শাসকদলের ‘সিন্ডিকেট’ চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার হিড়িক বাড়বে বলে মনে করেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।