স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দ্বিতীয়বারের জন্যে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদীর শপথে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বৃহস্পতিবার ৩০ মে সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান মোদীর। যেখানে দেশ-বিদেশের সমস্ত তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

সন্ধ্যায় নবান্ন ছাড়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ মাঝে আর এক দিন রয়েছে হাতে৷ তবে প্রদানমন্ত্রীর শপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এটা যেহেতু সাংবিধানিক সৌজন্য তাই এই সিদ্ধান্ত৷’’ মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অন্যসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে নবান্নে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সামনে রেখে দেশের ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ প্রচারে মোদী-মমতা ডুয়েল দেখা গিয়েছিল৷ কিন্তু তারপরই মোদীর শপথে দেখা যায়নি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে৷

কিন্তু, এবার অন্য ছবি৷ মোদীর দ্বিতীয়বারে শপথে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই আগামী বৃস্পতিবারের সব কর্মসূচি বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে৷ ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে৷

আগামী ৩০ মে কলকাতা পুরনিগমের তরফে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল৷ আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ গত শনিবারই সেই ইফতারে যাওয়ার সম্মতির কথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি মুসলমান তোষণ করি, বেশ করি৷ যো গরু দুধ দেয় তার লাথিও খেতে রাজি৷ আমি পার্ক সার্কাসে ইফতারে যাব৷’’

জানা গিয়েছে, মোদীর শপথে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন বলে কলকাতা পুরসভার ইফতারের অনুষ্ঠানও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ ৩০ মে-র বদলে তা হবে আগামী ৩ জুন৷

সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যার বিমানেই কলকাতা থেকে নয়াদিল্লি যেতে পারে মুখ্যমন্ত্রী৷

এবার লোকসভা ভোটে তৃণমূলের মূল প্রতিপক্ষ ছিল বিজেপি৷ অন্যদিকে, মোদী-শাহ জুটির নজরে ছিল বামলায় পদ্মের পাপড়ি মেলা নিশ্চিত করা৷ ভোটের ফলেই স্পষ্ট, মোদী ক্যারিশ্মা কাজ করেছে বঙ্গে৷ রাজ্যে ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ১৮৷

প্রচারে মোদী-শাহ সহ গোটা বিজেপিকেই তুলধোনা করেন তৃণমূল নেত্রী৷ দিল্লি থেকে মোদী সরকারকে হঠাতে ডাক দেন তিনি৷ প্রধানমন্ত্রীকে কখনও চোর, আবার কখনও এক্সপায়েরী প্রাইমমিনিস্টার, আবার কখনও অন্য কোনও কড়া বিশেষণে সমালোচনা করেন৷ অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের বকেয়া পাওনা না দেওয়ারও৷

ভোটের ফলাফলেও ইভিএম কারচুপি ও কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিরুদ্ধ অবস্থান জারি থাকবে বলে জানিয়ে দেন মমতা৷

প্রধানমন্ত্রীর শপথে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া নিয়ে অবশ্য রাজনীতির আঙিনায় ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা৷ তাহলে কী ভোটে হেরে সুর নরম করলেন মমতা৷ জল্পনা ওড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী উত্তর, ‘‘সৌজন্যের খাতিরেই দিল্লি যাচ্ছি৷’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.