কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলে ফের নক্ষত্র পতন! প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ পিকে-এর পর চলে গেলেন আরও এক কিংবদন্তি ফুটবলার চুনী গোস্বামী। মৃত্যু কালে ৮৩ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিখ্যাত এই ফুটবলার। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ফুটবলমহলে। মাসখানেক আগেই দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা গিয়েছেন পিকে৷ এবার চলে গেলেন আরও এক মোহনবাগানরত্ন৷

ক্রীড়াক্ষেত্রে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন চুনী গোস্বামী৷ শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট এবং টেনিসেও সমান পারদর্শী ছিলেন তিনি৷ বাংলার হয়ে প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটের পাশাপাশি টেনিসেও ব়্যাকেটে হাতে তাঁর প্রতিভা প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ ১৯৬২ সালে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় ফুটবল দলকে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তিনি৷

গত কয়েকমাস ধরে সুগার, সিস্টেরেট এবং স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন তাঁকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু বিকেল ৫টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়৷

তাঁর অধিনায়কত্বে ভারতীয় ফুটবল দল ১৯৬২ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ছাড়াও ১৯৬৪ সালে এশিয়ান কাপে রানার্স হয়েছিল৷ শেষ করেছিল ছয় মাসের ব্যবধানে মার্দেকা ফুটবলে বার্মার কাছে হেরে যায় ভারতীয় দল। জাতীয় দলকে নেতৃত্বে দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে তাঁর প্রিয় মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন চুনি গোস্বামী।

কলেজের দিনগুলিতে তিনি ফুটবল ও ক্রিকেটে সমান পারদর্শীতা দেখিয়েছিলেন৷ একই বছর ফুটবল এবং ক্রিকেট উভয় ক্ষেত্রেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোস্বামী। আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে৷ দ্রুত ভারতীয় ফুটবলের বড় তারকা ওঠেন তিনি। কিন্তু মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান গোস্বামী৷

ভারতীয় ফুটবলের তাঁর কেরিয়ার স্থায়ী ছিল ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত৷ এই সময়ের ব্যবধানে দেশের হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি৷ ফুটবলে দেশ ও মোহনবাগান ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ক্রিকেটে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন৷ ১৯৬২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বাংলার রঞ্জি দলের সদস্য ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এই বঙ্গতনয়৷ এই সময়ের ব্যবধানে বাংলার হয়ে ৪৬টি প্রথমশ্রেণির ম্যাচ খেলেন তিনি৷ ফুটবলে তিনি ফরোয়ার্ডে খেললেও ক্রিকেটে তিনি ছিলেন অল-রাউন্ডার৷

১৯৬৬ সালে গ্যারি সোবার্সের ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলের বিরুদ্ধে ইনিংসে হার বাঁচাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন চুনী গোস্বামী৷ ইন্দোরে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিরুদ্ধে মধ্য ও পূর্বাঞ্চল দলের হয়ে বল হাতে আউট উইকেট নিয়েছেন তিনি৷ তাঁর ও সুব্রত গুহের দাপটে বোলিংয়ে ঐতিহাসিক ইনিংসের পরাজয় আটকে ছিল মধ্য ও পূর্বাঞ্চল দল৷

ক্রিকেটেও বাংলা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি৷ ১৯৭১-৭২ সালে তাঁর নেতৃত্বে রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠেছিল বাংলা৷ তবে ব্রোবোর্ন স্টেডিয়ামে তৎকালীন বোম্বের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলা৷ ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি অর্জুন ও পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV