ফাইল ছবি

কলকাতা:  নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সেই বিলে শিলমোহরও দিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ। আর এই বিল নিয়ে ইতিমধ্যে আগুন জ্বলছে অসম, ত্রিপুরা সহ বিস্তির্ণ অঞ্চলে। সেই রেশ পড়েছে বাংলাতেও। কলকাতা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সংখ্যালঘু মানুষজন। পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, উলুবেড়িয়া, খড়দহ, ডায়মন্ড হারবার এবং মুর্শিদাবাদে স্থানীয়দের আন্দোলনের জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল। রেললাইনে অবরোধের জেরে বেশ কয়েকটি স্টেশনে বন্ধ ট্রেন চলাচলও। এমনকি হাওড়া থেকে কোনও লোকাল ট্রেন ছাড়ছে না বলেই জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিগত কয়েক ঘন্টা ধরে উলুবেড়িয়া স্টেশনে অবরোধ চলছে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। তাতে ট্রেনের চালক গুরুতর জখম হন। তারপর উলুবেড়িয়া স্টেশনে রেললাইনের উপরে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

যার জেরে ওই লাইনে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে ট্রেন চলাচল। বিক্ষোভ-অবরোধের জেরে দূরপাল্লার বহু ট্রেনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে সেগুলি দাঁড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে চরমে উঠেছে ভোগান্তি। শুধু উলুবেড়িয়া স্টেশনেই নয়, হাওড়া উলুবেড়িয়া জাতীয় সড়কের উপরও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সংখ্যালঘু মানুষজন।

জানা গিয়েছে, দুপুর থেকে নিমদিঘির নরেন্দ্র মোড় এলাকায় বিক্ষোভ দেখান সংখ্যালঘু মানুষজন। ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেন তাঁরা। পোড়ানো হয় কুশপুতুলও। গরুহাটা, পারিজাত এলাকাতেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বাগনানের পরিস্থিতিও যথেষ্ট থমথমে বলে জানা গিয়েছে। তবে সবথেকে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা স্টেশনেও। স্টেশনের এক অংশে বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। আর তা বাঁধা দিয়ে আসলে আরপিএফ কর্মীদের উপরেই বিক্ষোভকারীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। কেবিনম্যানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

গোটা রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতাতেও এদিন বিক্ষোভ দেখান সংখ্যালঘু মানুষজন। পার্ক সার্কাস সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলে। তবে সমস্ত মানুষকে এদিন শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা সত্ত্বেও এদিন বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে।