নয়াদিল্লি: স্বস্তি মিলল না৷ সিবিআইয়ের পেশ করা নতুন চার্জশিটে এয়ারসেল-অ্যাক্সিস মামলায় নাম উঠল প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের৷ এই প্রথম সিবিআইয়ের চার্জশিটে পি চিদাম্বরমের নাম তালিকা ভুক্ত হল৷ এছাড়াও নাম রয়েছে চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি চিদাম্বরমের৷

আরও পড়ুন- বাজারে আসছে নতুন ১০০ টাকার নোট, কেমন দেখতে?

চার্জশিটে মোট ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে৷ দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে এই চার্জশিট জমা পড়েছে৷ কার্তি চিদাম্বরম এই মামলায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত৷ তাঁকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারও করা হয়। পরে তিনি জামিন পান।

বিশেষ সিবিআই বিচারক ও পি সৈনির সামনে বৃহস্পতিবার চার্জশিট ফাইল করে সিবিআই৷ নতুন চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ড বা এফআইপিবি-র ক্ষেত্রে দুটি পৃথক আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রমাণ মিলেছে৷

পি চিদাম্বরম এবং কার্তি চিদাম্বরম ছাড়া বাকি ১৬ জন অভিযুক্তদের মধ্যে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নাম রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দু’‌জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর নামও রয়েছে অভিযুক্তদের তালিকায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷ তিনি বলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে৷ তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা চলছে৷ তবে আদালতের বিচারাধীন যখন গোটা বিষয়টি, তখন এ বিষয়ে মুখ খুলবেন না তিনি৷ এই মামলায় পরবর্তী শুনানি আগামী ৩১ তারিখ।

আরও পড়ুন- বিজেপি হটাতে যুবশক্তিতে ভরসা রাখছে রাহুল

ইউপিএ ১ সরকারের আমলে চিদম্বরম অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ই ৩,৫০০ কোটি টাকার এয়ারসেল-ম্যাক্সিস ও ৩০৫ কোটি টাকার আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ড এই চুক্তি অনুমোদন করেছিল। এ বিষয়ে চিদম্বরম ও কার্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এরআগে, পি চিদাম্বরমের অন্তর্বর্তী সুরক্ষার সময়সীমা বাড়ায় দিল্লি হাই কোর্ট৷ আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় কিছুটা স্বস্তি পান প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী৷ সময়সীমা ১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়৷ চিদাম্বরমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সিবিআই৷

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় চিদাম্বরমের ছেলে কার্তি চিদাম্বরমের জামিনও মঞ্জুর করে দিল্লি হাই কোর্ট৷ সেই জামিনকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্টে ফের মামলা করে সিবিআই৷ তিন মাস আগে আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় জামিন পান পি চিদাম্বরমের ছেলে৷ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি সিবিআই৷ জামিন মঞ্জুরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় সিবিআই৷