নয়াদিল্লি: ভারতের দ্রুততম ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের শুভু সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ট্রেনকে কাশ্মীরের জন্য কেন্দ্রের বিশেষ উপহার বলে সম্বোধন করেন তিনি। নয়াদিল্লি থেকে এই ট্রেনের উদ্বোধন করে অমিত শাহ বলেন দিল্লি থেকে কাটরার পথে ছুটবে এই ট্রেন। কাশ্মীরের উন্নয়ন ও ধর্মীয় ভ্রমণকে আরও উন্নত করার জন্য এই ট্রেনের অবদান উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। দিল্লি থেকে কাটরার পথে এই ট্রেনের গন্তব্য বৈষ্ণোদেবী মন্দির।

১২ ঘণ্টার জায়গায় ৮ ঘন্টাতেই এই পথ পার করবে দ্রুতগতির ট্রেন বন্দে ভারত। আগামী রবিবার থেকে যাত্রা শুরু হবে ট্রেনটির। ইতিমধ্যেই ট্রেনটির বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের রুট। প্রথম ট্রেনটি চলে দিল্লি থেকে বারাণসী পর্যন্ত। এদিন অমিত শাহ বলেন কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পরে এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক সূচনা রাজ্যটির উন্নয়নের ধারক হিসেবে দেখছে কেন্দ্র সরকার। কাশ্মীরের পর্যটনকে আরও উজ্জীবিত করবে এই ট্রেন।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, ও ডঃ হর্ষ বর্ধন। রেলমন্ত্রী বলেন ২০২২ সালের ১৫ই অগাষ্টের মধ্যে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত রেলপথ চালু হয়ে যাবে। গোটা দেশকে একসূত্রে বেঁধে ফেলবে রেল। এদিন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনায় ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন বৈষ্ণোদেবীর যাত্রী ও জম্মু কাশ্মীরের ভাই বোনেদের জন্য এই ট্রেন নবরাত্রির উপহার।

ধর্মীয় পর্যটনকে আরও জোরদার করবে বন্দে ভারত। রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০২২ সালের মধ্যে মোট ৪০ টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আনা হবে। এই নিয়ে কাজ হচ্ছে। সব বিষয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা রেখে এই প্রকল্প মেক ইন ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রথম আনা হয় দিল্লি-বারাণসী রুটে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চূড়ান্ত ট্রায়াল রানে উপস্থিত ছিলেন ১৫ জন মেকানিক্যাল কর্মী, ছিলেন ড্রাইভার, গার্ড। ট্রায়াল রানে কোনও সমস্যা হয়নি।

এই ট্রেন ঘণ্টায় ১৩০ কিমি গতিতে ছুটবে বলে জানানো হয়েছে। ট্রায়াল রানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। তবে যাত্রী নিয়ে এই ট্রেনের গতি রাখা হবে ১৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। অবশ্যই তা যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে। তবে এর সর্বোচ্চ গতি ধার্য করা হয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ১৬০ কিমি। এই ট্রেনে থাকবে ১৬টি কোচ। এরই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সহায়ক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। থাকছে দুটি ড্রাইভার কার, দুটি এক্সিকিউটিভ চেয়ার কার, ১২টি চেয়ার কার কোচ। প্রতিটি কোচেই থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী সহায়ক শৌচালয়।