জলপাইগুড়ি: কিছুদিন আগেই দিঘার সমুদ্রে উঠে আসছিল একের পর এক রূপোলী ইলিশ। তা ধরতে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় দিঘার সৈকতে। সেই মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয় নিমিষেই। এবার একই ভাবে জলপাইগুড়িতে উঠে এল এক পেল্লাই সাইজের বোয়াল। শুক্রবার মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ে একটি বিশালাকার সাইজের সোনা বোয়াল। জলপাইগুড়ি করলা নদীতে দূষণের মাত্রা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সেই জেলার একদল পরিবেশবিদ। নদীকে ঠিক কোন উপায়ে দূষণমুক্ত করা যায় তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা এবং সচেতনতা চালাচ্ছেন তাঁরা। দূষণ নিয়ন্ত্রণে বারংবার সোচ্চার হয়ে লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার রাতে জলপাইগুড়ি করলা নদীর ঝোলনা ব্রিজ এলাকায় বিষ্ণু রায় নামে এক মৎস্যজীবী নদীতে টাগী ফেলে, স্থানীয় ভাষায় টাগী অর্থাৎ বড়শী। সেই বড়শীতে মাছের টোপ দিয়ে তাতে সুতো লাগিয়ে বোতলে জড়িয়ে নদীতে ফেলে দেন তিনি।
আর তাতেই ধরা পড়ে কিলো ছয়েকের অত্যন্ত সুস্বাদু পেল্লায় সাইজের এক সোনালী বোয়াল। এই মাছের বর্তমানে বাজারদর অন্তত একহাজার টাকা প্রতি কিলো।

২০১১ সালে ১৬ নভেম্বর করলা নদীতে ভয়ানক বিষক্রিয়া দেখা দেয়। ভয়ঙ্কর সেই বিষক্রিয়ায় জলে ভেসে উঠেছিল পেল্লায় সাইজের এই ধরনের বোয়াল-সহ অন্যান্য মাছ। সেই সময় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিল বিষক্রিয়ায় প্রায় সমস্ত মাছই মরে গেছে। তাই এই মাছের ভান্ডার নদীতে ফের ফিরে আসতে বেশ কয়েকবছর সময় লাগবে।

কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনা প্রমাণ করল এখনও এই নদীতে রয়েছে বহু এই ধরনের মাছ। এই সাইজের মাছ ধরা পড়ার পর আনন্দের শেষ নেই মৎস্যজীবীদের মনে। বহু মৎস্যজীবীই মনে করছেন তাদের আবার সুদিন ফিরে এলো।