কলকাতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-নজরুল ইসলাম, বাঙালি সংস্কৃতির দুই ধারক-বাহক গোটা জাতির কাছে গর্বের-অহঙ্কারের৷ কিন্তু এঁদের দুজনেই মধ্যেই এখন দড়ি টানাটানি চলছে৷ কার মাথায় জয়ীর মুকুট ওঠে, তা নিয়েই ভোটের ময়দানে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই৷

একটু স্পষ্ট করে বলা যাক৷ একুশের বিধানসভা নির্বাচনী রাজনীতিতে ‘স্লোগান যুদ্ধ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মোদী-শাহ-নাড্ডারা ক্ষমতায় এলে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে। তৃণমূলের জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে বিজেপির কটাক্ষ, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ধার করেছে তৃণমূল। ওপার বাংলা থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল তাই এই স্লোগান ওদের মুখে।  রাজ্যে বিজেপির সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য কদিন আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন,’বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণহুঙ্কার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন পিসি। পিসি কার থেকে স্বাধীনতা চাইছেন?’

শনিবার উত্তরবঙ্গ থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আক্রমণের পাল্টা দিয়েছেন বিজেপিকে। বিজেপির ‘সোনার বাংলা’ প্রতিশ্রুতিকে তোপ দেগে বলেছেন, “তুমি করলে রামলীলা, আমি করলে ক্যারেক্টার ঢিলা? বিজেপি বলছে, ক্ষমতায় এলে ‘সোনার বাংলা’ বানাবে। আমি ‘জয় বাংলা’ বললে বাংলাদেশি আর তুমি ‘সোনার বাংলা’ বললে দেশপ্রেমিক? ‘সোনার বাংলা’ কোথাকার স্লোগান?”

প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচয়িত আমার সোনার বাংলা গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। অন্যদিকে, জয় বাংলা নজরুলের লেখা কবিতার অংশ৷

সোনার বাংলা

আমার সোনার বাংলা গানটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। বঙ্গমাতা সম্পর্কে এই গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে রচনা করেন। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গানটি রচিত হয়েছিল। সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে এ গানটির প্রথম দশ লাইন সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়।

জয় বাংলা

জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে তাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবল ভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। ভারতের বাঙালি অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা,বরাক উপত্যকা লোকেরাও বাঙালির ঐক্য বোঝাতে এর ব্যবহার করে থাকে। কবি নজরুলের রচিত ‘ভাঙার গান’ কাব্যগ্রন্থের ‘পূর্ণ-অভিনন্দন’ কবিতাটিতে প্রথম ‘জয় বাংলা’ শব্দটি ব্যবহার করেন কবি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.