আট একর জায়গা জুড়ে বিরাট রাজস্থানী প্রাসাদ৷ কিন্তু সে প্রাসাদ কেরালায়৷ চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো প্রাসাদ দেখে মন হতে পারে কোনও সিনেমার সেট৷ কিন্তু  কে না জানে বাস্তব কল্পনার থেকেও চমকদার! আসলে বিখ্যাত ব্যবসায়ী আর পিল্লাইয়ের মেয়ের বিয়ের আয়োজনেই এত জাঁকজমক৷ শুধু প্যান্ডেলের খরচই ২০ কোটি টাকা৷ ধারে ভারে আড়ম্বরে যা ‘বাহুবলি’র সেটকেও টেক্কা দিল৷ আর সে মণ্ডপ তৈরি করলেন আর কেউ নয়, স্বয়ং বাহুবলি ছবির আর্ট ডিরেক্টর৷

কনে আরতি
কনে আরতি

পরদায় ‘বাহুবলি’র সেটে জাঁকজমক দেখে চোখ কপালে উঠেছিল দেশবাসীর৷ কিন্তু সিনেমাকে ছাপিয়ে গেল বাস্তব৷ দেশের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আর পিল্লাই৷ তাঁর মেয়ের বিয়ে যে নজরকাড়া হবে তা বলাই বাহুল্য৷ সে বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে ডাক পড়েছিল শিল্প নির্দেশক সাবু সাইরিলের৷৮ একর জায়গা জুড়ে তিনি তৈরি করেছেন রাজস্থানী প্রাসাদের ঢঙে বিয়ের মণ্ডপ৷ তাঁর ২০০ জনের টিম প্রায় দিন ১৫ কাজ করে তৈরি করেছেন এ প্রাসাদ৷ বিয়ের জায়গা থেকে, ভিভিআইপি লাউঞ্জ, অতিথিনিবাস, পরিবারের জায়গা সব মিলিয়ে এলাহী আয়োজন৷ তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা৷ ‘বাহুবলি’ ছবির সেট তৈরির কাজও করেছেন তিনি৷ সেখানে যে প্রাসাদটি দেখা গিয়েছিল তা ছিল ৫ একর জায়গা জুড়ে৷ বলা যায়, নিজের পুরনো কাজকেই টেক্কা দিয়েছে তিনি৷ 

বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৩০ হাজার অতিথি৷ তাঁদের নাচে গানে মজিয়ে রাখার দায়িত্ব মালায়লাম অভিনেত্রী মঞ্জু ওয়ারিয়ার ও শোভানার৷ প্রায় সপ্তাহখানেক জুড়ে চলবে বিয়ের সেলিব্রেশন৷ গোটা পিল্লাই পরিবারই এমনিতে খরচখরচায় দিলদরিয়া৷ তাই মেয়ে আরতির বিয়ে সিনেমার থেকেও বেশি জাঁকজমকে মুড়ে দিয়েছেন তাঁরা৷ তবে আভিজাত্য প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক কিছু কর্তব্য পালন করতেও ভোলেনি পিল্লাই পরিবার৷ তিরুবন্তপুরম ও কোল্লাম জেলায় কাজের জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে৷

পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে৷ বহু সেলেবের বিয়ের জাঁকজমকই ইতোমধ্যে খবরের শিরোনামে এসেছে৷ তবে খরচের নিরিখে এটাই সেরা ভারতীয় বিয়ে কি না তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা৷