কলকাতা: করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিনের উহান শহরের দেখানো পথেই হেঁটেছিল কলকাতা পুরসভা। এবার সে পথেই হাঁটল বিধাননগর পুরসভাও। বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুর ভবন এবং সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তা জীবাণু মুক্ত করা হয়। জীবাণুনাশক রাসায়নিক জলে মিশিয়ে তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো হয়। এই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী ও অন্যান্য আধিকারিকরা। বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানান, প্রথম পর্যায়ে বিধাননগর পুর ভবন ও বিভিন্ন রাস্তা জীবাণু মুক্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে সল্টলেক ও রাজারহাটেও রাসায়নিক ছড়িয়ে জীবাণু মুক্ত করা হবে। এর আগে গত ২৪ মার্চ থেকে মহানগরের রাস্তায় ২০টি জেট-স্প্রে গাড়ি দিয়ে জীবাণুনাশক রাসায়নিক জলে মিশিয়ে ছড়ানো শুরু হয়েছে। বলা প্রয়োজন করোনার আঁতুর ঘর উহানে ব্যাপক হারে এই সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশ্রিত স্প্রে ছড়িয়েই ভাইরাসকে ধ্বংস করে মৃত্যুর হার কমিয়ে এনেছে চিন। আর সেই রাসায়ানিক মিশিয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে করা হচ্ছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, কলকাতাতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেট-স্প্রে মেশিন ছাড়াও করোনা সংক্রমিত হতে পারে এমন সন্দেহে চিহ্নিত বহুতলের বিভিন্ন ফ্লোরে ওই রাসায়নিক বিশেষ ধরনের ফগিং মেশিন দিয়ে ছড়িয়ে ভাইরাস ধ্বংস করবেন পুরসভার কর্মীরা। জরুরিভিত্তিতে অর্ডার দিয়ে একসঙ্গে ওই ২০টি বিশেষ ধরনের মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়ম করে মহানগরের সমস্ত ঘন জনবসতি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের চিহ্নিত এলাকায় ওই জীবাণু ধংসকারী রাসায়নিক-স্প্রে ছড়ানো হচ্ছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম আরও বলেছিলেন, “দিনকয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী দলীয় রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিলের তরফে ২০টি জেট-স্প্রে গাড়ি দিয়েছিলেন পুরসভাকে। মূলত রাজপথ ধোয়া ও রাস্তার ডিভাইডারের গাছে জল দেওয়ার জন্য ওই গাড়িগুলি ব্যাবহার হওয়ার কথা। কিন্তু এবার ওই গাড়ির জলে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশিয়ে শহরের বিভিন্ন ঘনবসতি এলাকায় ছড়ানো হবে।” মেয়র জানিয়েছেন, প্রথমে এসএসকেএম, বাঙ্গুর, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় জেট-স্প্রে জলের গাড়ি ভাইরাস ধ্বংস করতে কাজ শুরু হচ্ছে।