কলকাতা:  বিধাননগর পুরসভায় অচলবস্তা চলছে। আগামী ১৮ তারিখ মেয়র সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে তৃণমূল কাউন্সিলররা। ক্রমশ জট পাকাচ্ছে। এই অবস্থায় গত কয়েকদিন আগেই মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সব্যসাচী দত্ত। সেখানেই অচলবস্তা কাটাতে আইনের দ্বারস্থ হবেন বলেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। কীভাবে অনাস্থার মোকাবিলা করা যায় সেই রণকৌশল সাজাতেই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন সব্যসাচী। আর সেজন্যে হাইকোর্টের আইনজীবীদের দ্বারস্থ হলেন তিনি। আজ শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। মূলত কীভাবে অবস্থার মোকাবিলা করা যায় সে বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়।

গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সব্যসাচী দত্ত। সম্প্রতি বিদ্যুৎ ভবনে গিয়ে কর্মীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখান থেকে সরাসরি বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। যা কার্যত সব্যসাচীর কফিনে শেখ পেরেক ছিল। এরপরেই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি বিধাননগরের সমস্ত কাউন্সিলরকে তলব করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

সেই বৈঠকে ডানা ছাটা হয় সব্যসাচী দত্তের। মেয়রের হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়। জানানো হয় যে মেয়রের সমস্ত কাজ দেখবে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়। যিনি কিনা মন্ত্রী সুজিত বসু ঘনিষ্ঠ এবং সব্যসাচীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলাই যায়। যা নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সব্যসাচী।

উল্লেখ্য সেদিন রাতেই উল্লেখযোগ্যভাবে সব্যসাচীর কাছে পৌঁছে যান মুকুল রায়। সেখানে আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সব্যসাচী বলেন, পুর আইনে যা বলা রয়েছে সেভাবেই কাজ হবে। এর বাইরে কিছু হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থার আনার বিষয়ে তিনি আরও জানান, আইন-আদালতের রাস্তা তো খোলা রয়েছে। যা হবে দেখতেই পাবেন। অর্থাৎ ইঙ্গিতে সব্যসাচী বুঝিয়ে দেন যে তিনিও ছাড়বার পাত্র নয়। প্রয়োজনে যে আইনের দ্বারস্থ হবেন তিনি তা সাফ অবশ্যই জানিয়ে দেন মেয়র।

এরপরেই আজ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সব্যসাচী। যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই হয়তো মামলা করতে পারেন সব্যসাচী। তবে সূত্রের খবর, এখনই হয়তো কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ নাও হতে পারেন বিধাননগরের মেয়র। চলতি মাসের ১৮ তারিখ অনাস্থা রয়েছে। কোন দিকে যায় তা, সেটা দেখেই হয়তো চরম ব্যবস্থা নিতে পারেন বিধাননগরের মেয়র।