ধরমশালা: নোভেল করোনা আতঙ্কের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শুরু হতে চলা সিরিজের আগে এক অভিনব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল টিম ইন্ডিয়া। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজে বলে লালা লাগানোয় ভারতীয় ক্রিকেটারদের উপর জারি হল নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু চলা ওয়ান-ডে সিরিজে বল উজ্জ্বল রাখতে লালার ব্যবহার কমাবেন কোহলির দলের ফাস্ট বোলাররা। ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে করোনা আতঙ্ক এবং মারণ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে আগাম এই সতর্কতা সম্বন্ধে জানালেন সিরিজে দলে কামব্যাক করা ভুবনেশ্বর কুমার।

বুধবারই দলের মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানালেন ভুবি। সাংবাদিক সম্মেলনে কোহলির দলের ফাস্ট বোলার জানান, ‘আমরা প্রথমে লালা ব্যবহার থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে ভাবলাম লালা ব্যবহার না করলে বল চকচকে রাখা সম্ভব নয়। আর বল চকচকে না রাখলে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা আমাদের বেধড়ক মারবে আর তখন আপনারা বলবেন তোমরা খারাপ বোলিং করছো।’ তবে ভুবির কথায় এমন কঠিন সময়ে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। টিম মিটিংয়ে আজ আমাদের একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেটা ঠিক বলে মনে করব আমরা সেটাই করব।

নোভেল করোনা ভাইরাসে ইতিমধ্যেই ৬১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে এদেশে। আসন্ন আইপিএল যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কীনা, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। এমন সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ বন্ধের দাবি জানিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে পিআইএল। হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে দলে ফেরা ভুবি এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন এখনই এই নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা টিম ডক্টরের পরামর্শ মতো সতর্কতা অবলম্বন করে যাব।

টিম ডক্টর দলের ক্রিকেটারদের জন্য কী করণীয় আর কী করণীয় নয় তা নিয়েও একটি তালিকা প্রস্তুত করেছেন। যার মধ্যে পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার বিষয়টি, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা, অনুরাগীদের কাছাকাছি না ঘেঁষার বিষয়টি ক্রিকেটারদের প্রাথমিকভাবে মাথায় রাখার কথা জানানো হয়েছে টিম মিটিংয়ে। ইতিমধ্যেই করোনা আতঙ্কে ভারত সফর চলাকালীন কোনও হ্যান্ডশেক করবেন না দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা। তার উপর মঙ্গলবার দিল্লি এয়ারপোর্টে মাস্ক পরা ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে উদ্বেগ বাড়িয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার লেগ-স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ক্রিকেটারদের জন্য বিসিসিআই প্রস্তাবিত গাইডলাইন:
১. সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।
২. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা প্রত্যেক ক্রিকেটারদের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩. কাশি-হাঁচির ক্ষেত্রে ভালো করে মুখ ঢাকা বাধ্যতামূলক।
৪. শারীরীক দুর্বলতা, জ্বর অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল টিমকে রিপোর্ট করা।
৫. ভালো করে হাত না ধুয়ে মুখ, চোখ কিংবা নাকে হাত দেওয়া চলবে না।
৬. রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে আগে তার হাইজিন সম্পর্কে অবগত হতে হবে।
৭. অচেনা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা চলবে না। অচেনা ব্যক্তি, অনুরাগীদের ফোন ধরা কিংবা সেলফি নেওয়া একেবারেই চলবে না।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা