জলপাইগুড়ি: ভুটান থেকে এসে বিশাল বাঘের চামড়া পাচার করার সময় ধরা পড়ল দু জন। জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর ফরেস্ট রেঞ্জের এসটিএফের অভিযানে তারা ধরা পড়ে।

ধৃতদের নাম ইয়ংবা নানং ও নাগমে ওয়াংদি। তাদের কাছে মিলেছে ১৪ ফুট লম্বা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া। দুই ভুটানি পাচারকারকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিদেশি নাগরিক গ্রেফতার সংক্রান্ত আইনেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। জেরায় দুই ভুটানি পাচারকারি জানিয়েছে, বাঘের চামড়ার অর্ডার এসেছে নেপাল থেকে। সেই মতো জলপাইগুড়ি হয়ে নেপালে পাঠানো হচ্ছিল সব।

গোপনে সেই সংবাদ পায় বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের উত্তরবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। মঙ্গলবার রাতে আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারার কাছে ১৪ ফুটের বাঘের চামড়া ও হাড় সহ দুই ভুটানিকে গ্রেফতার করা হয় ।

তারপর তাদের জেরা করে জানা যায় ভুটান থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে নেপাল পর্যন্ত পাচার চক্রের একটি গোষ্ঠীর খবর। আন্তর্জাতিক এই পাচারকারি দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের খোঁজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা হয়নি।

সম্প্রতি কলকাতায় সিংহ সহ বড়সড় বন্য় প্রাণী পাচারকারীরা ধরা পড়ে। পূর্ব বর্ধমান জেলাকে ভিত্তি করেও আন্তর্জাতিক পশু পাচার চক্র সক্রিয় বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তি এই পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রিণ করে বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

উত্তরবঙ্গে এখনও অব্যাহত রয়েছে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারের কারবার। কড়া নিয়ম এবং আইন করেও যখন পাচার ঠেকানো যাচ্ছেনা। তখন মঙ্গলবার রাতে বন্যপ্রাণী পাচারের জাল বানচাল করে বড়সড় সাফল্য পেল জলপাইগুড়ির বন দফতরের আধিকারিকরা।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা চৌপথি থেকে উদ্ধার হয় ১৪ ফুট লম্বা পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ত্বক এবং একশো দশটি হাড়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় দুই আন্তর্জাতিক পাচারকারীকে। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাচারকারী ওই দুই ব্যক্তিই ভুটানের বাসিন্দা।

শুধু তাই নয়, তাদের মধ্যে একজন ভুটানের প্রাক্তন সেনাকর্মী বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই দুই পাচারকারীর নাম ইয়ংবা নানং এবং নামগে ওয়াংডি। এদিকে ধৃতদের বুধবার জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, টাস্ক ফোর্সের প্রধান তথা বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে জলপাইগুড়ি থেকে নেপালে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া ও হাড় পাচার করবে। জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযানে নামেন বন দফতরের আধিকারিকরা। গোপনে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হাসিমারা চৌপথি থেকে হাড়গোড় সহ একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ত্বক উদ্ধার করেন তাঁরা।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে এই বাঘের ত্বক আসাম থেকে ভুটানের গালিফু হয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানে এক ক্রেতার কাছে ত্বকটি ৩২ লক্ষ টাকায় বিক্রির কথা হয়েছিল। ধৃতরা গত এক মাস ধরে এই ত্বকটি পাচারের চেষ্টা করছি। জানা গিয়েছে, এই পাচার চক্রের সঙ্গে এক মহিলাও যুক্ত রয়েছে। অবশ্য তাকে এখনও পর্যন্ত ধরা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে তার নাম জানা গিয়েছে।