দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ড. ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ তবে বিষয়টি যে রাজনাতির বাইরে নয় তা বোঝাতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বামপন্থীদলগুলি৷ মোদী সরকারের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল পাশের অতিসক্রিয়তায় অসম পরিস্থিতি উত্তপ্ত৷ আগুনে আন্দোলন দিন দিন বাড়ছে৷ এই সময়, কিংবদন্তি গায়ক তথা ‘অসমের ভূমিপুত্র’ড. হাজারিকাকে ভারতরত্ন দিয়ে নিজের পালে হাওয়া টানতে চাইলেন কী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? বিজেপির ‘রত্ন-রাজনীতি’র শিকার হলেন কী এই অমর কন্ঠশিল্পী? প্রশ্ন উঠেছে৷

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ট্যুইট করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, কমিউনিস্ট কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী পল রবসনের ‘Ol’Man River …’ গানটি থেকে আবেগপ্রবণ এবং উজ্জিবীত ‘বিস্তীর্ণ দুপুরে …’ গানটি সৃষ্টি করেছিলেন ড. ভূপেন হাজারিকা৷ (আজ উনি জীবিত থাকলে) নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল সম্পকে ওর অনেক কিছু বলার থাকত৷ মানুষে মানুষে হিংসা এবং ভেদাভেদ সৃষ্টিকারী এই বিলকে আইন করতে চাইছে মোদী সরকার৷ ট্যুইটারে সীতারাম আরও বলেছেন, মোদী সরকারের হিংসাত্মক এবং ভেদাভেদমূলক রাজনীতি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানকেও ছাড় দেয়নি৷ মনে হচ্ছে ভারতীয় ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার এই প্রচেষ্টাকে কেউ দোষারোপও করতে পারবে না৷

ড. হাজারিকা গেয়েছিলেন, ‘গঙ্গা আমার মা … পদ্মা আমার মা …৷’ বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার অধিকারি এই গায়ক বাংলাদেশে জনপ্রয়তার শীর্ষে গিয়েছিলেন৷ প্রয়াত হন ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর৷ তবে ভারতরত্নে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের জল পদ্মা-গঙ্গা ভেসে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে৷ পরিবার ঠিক করেছে তিনি ভারতরত্ন নেবেন না৷ ভারতরত্ন পুরস্কার নেবে না বিখ্যাত গায়ক ভূপেন হাজারিকার পরিবার। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের প্রবাদে পরিবার এই সম্মান নিতে চায় না৷ শিল্পী পুত্র তেজ হাজারিকা সাফ জানিয়েছেন, অসম পরিস্থিতি চোখের সামনে দেখে এর থেকে সরে আসতে পারছি না৷ ভূপেন হাজারিকা সবসময়ই এর প্রতিবাদ করেছেন। সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা এ সম্মান নিতে পারছি না।

গায়ক ১৯৪২ সালে গুয়াহাটির কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট আর্টস নিয়ে পাশ করেন৷ এরপর, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বি.এ পাশ করেন৷ ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ. পাস করেন। কাশী এবং গঙ্গা তাঁর স্মৃতিতে সব সময় বিচরণ করেছে৷ ১৯৫২ সালে নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। অল্পসময়ের জন্য তিনি বিজেপি-তেও যোগ দিয়েছিলেন৷