কল্যাণী: ফের লিগের লড়াই কঠিন হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। ম্যাচ জিতে সোমবার শীর্ষে ওঠার হাতছানি থাকলেও ভবানীপুরের কাছে আটকে গিয়ে লিগ জয়ের সমীকরণ জটিল করে ফেলল লাল-হলুদ। কল্যাণী স্টেডিয়ামে এদিন ইস্টবেঙ্গল-ভবানীপুর ম্যাচ শেষ হল ২-২ গোলে। ম্যাচে দু’বার এগিয়ে গিয়েও জয় পেতে ব্যর্থ লাল-হলুদ।

কল্যাণীতে এদিন স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেন ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো গার্সিয়া। নির্বাসন কাটিয়ে প্রথম একাদশে ফেরেন মেহতাব সিং ও লালরিনডিকা রালতে। পাশাপাশি এদিন একাদশে শুরু করেন বোরহা গোমেজ, কমলপ্রীত সিং ও অভিষেক আম্বেকর। অর্থাৎ ভবানীপুরের বিরুদ্ধে একাদশে এদিন পাঁচ-পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামেন আলেজান্দ্রো। গোল পেতেও এদিন খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। ২৫ গজ দূর থেকে পিন্টু মাহাতা’র ইনস্টেপ শট গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে জড়িয়ে যায় জালে।

এরপর প্রথমার্ধ জুড়ে সিংহভাগ বল পজেশন নিজেদের দখলে রাখেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। তবে আধিপত্য বজায় রেখেও ম্যাচের প্রথমার্ধে ইনসিওরেন্স গোল তুলে নিতে ব্যর্থ হয় ইস্টবেঙ্গল। গত ম্যাচের নায়ক কোলাডো এদিন প্রথমার্ধ জুড়ে অনেকটাই নিষ্প্রভ। সবমিলিয়ে এক গোলে এগিয়ে থেকেই এদিন বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল।

বিরতির পর ৫৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ চলে আসে কোলাডোর কাছে। তবে ভবানীপুর দুর্গের শেষ প্রহরী অভিজিৎ দাসের দস্তানায় প্রতিহত হয় সেই সুযোগ। উলটে ৫৮ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে ভবানীপুর। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে এক্ষেত্রে লাল-হলুদ ডিফেন্ডার মেহতাব সিংকে ড্রিবলে পরাস্ত করেন কামো। এরপর ঠান্ডা মাথায় সেই বল তিনকাঠিতে রাখেন ভবানীপুরের বিদেশি স্ট্রাইকার। ৭৭ ও ৭৮ মিনিটে ম্যাচে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ চলে আসে ইস্টবেঙ্গলের সামনে।

দু’টি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ৮৩ মিনিটে ম্যাচে ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয় ইস্টবেঙ্গল। হাইমে কোলাডোর ফ্রি-কিক থেকে পরিষ্কার হেডে ব্যবধান ২-১ করেন বোরহা। কিন্তু ডিফেন্সের ভুলে লাল-হলুদের সেই লিড স্থায়ী হয় মিনিটখানেকের জন্য। ৮৪ মিনিটে ডানপ্রান্তিক আক্রমণের সুযোগ নিয়ে কাট করে বক্সে ঢোকেন জগন্নাথ সানা। এরপর গোল লক্ষ্য করে তাঁর নেওয়া বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় তিনকাঠিতে। অর্থাৎ, পিয়ারলেসকে টপকে লিগ টেবিলে শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকলেও ড্র করে সেই সুযোগ এদিন হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল।

৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত তিন নম্বরে তারা। সমসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়েও গোলপার্থক্যে দ্বিতীয়স্থানে রইল ভবানীপুর। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলে একই পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিয়ারলেস।