ভোপাল: আলিগড়ের ক্ষত এখনও টাটকা৷ গত রবিবারই আবর্জনার স্তূপ থেকে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় এক শিশু কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ ৩০ মে থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি৷ এবার ফের এক শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার হল নর্দমা থেকে৷ তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের৷

ভোপালের কমলা নগরে রবিবার শিশুটির বাড়ির খুব কাছ থেকেই তার দেহ উদ্ধার হয়৷ তবে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ ইতিমধ্যে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক পুলিশ কর্মীকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে৷

শনিবার বিকেল থেকে ৮ বছরের ওই মেয়েটি নিখোঁজ ছিল৷ বাড়ি থেকে কিছু কিনতে সে বিকেলে বেরিয়েছিল৷ তারপরে আর বাড়ি ফিরে আসেনি বলে পরিবারের অভিযোগ৷ পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন মেয়েটির বাবা মা৷ অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷ পরে রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই নর্দমা থেকে মেয়েটির দেহ উদ্ধার করেন৷

আরও পড়ুন : নাবালকদের রেভ পার্টিতে পুলিশের হানা, বাজেয়াপ্ত মদ-মাদক

পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা দেহ নিয়ে ময়নাতদন্তে পাঠায়৷ এএসপি অখিল প্যাটেল জানান, গতকাল রাত সাড়ে আটটা থেকে মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না৷ পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল৷ রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ দেহ উদ্ধার হয়৷ কর্তব্যে গাফিলতির জন্য এক পুলিশকর্মীকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে বলেও তিনি জানান৷

প্রাথমিক ভাবে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবে সেই বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন আইজি যোগেশ দেশমুখ৷

এদিকে, আলিগড়ে ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেশী পরিবারের জাহিদ ও আসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে৷ এরপরে শনিবার আরও ২ যুবককে আটক করে পুলিশ৷

আরও পড়ুন : অরুণাচলে নিখোঁজ বিমানের সন্ধান দিতে দুর্ধর্ষ ‘আদি’ মানবরাই ভরসা

তবে আলিগড় সিটি লইয়ার অ্যাসোসিয়েশন কোনওভাবেই এই অভিযুক্তদের হয়ে মামলা লড়তে চাইছেন না বলে খবর৷ তাঁদের দাবি, অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যেক সদস্য মৃতার পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন৷ কোনওবাবেই অভিযুক্তদের হয়ে সওয়াল করার প্রশ্নই উঠছে না৷ যদি বাইরে কোনও আইনজীবীকে নিয়ে আসা হয়, তবে তাঁকে লড়তে দেওয়া হবে না৷

দুই প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ ও আসলাম শুক্রবার রাতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে৷ শনিবার সকালে তাদেরই ভাই মেহেন্দি ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ মেহেন্দির স্ত্রীর ওড়না মৃত শিশুর গলায় প্যাঁচানো ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ পঞ্চম অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ৷

মৃত শিশুটির পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে৷ যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সেই দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে৷ তবে মেয়েটির শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে৷ হাত ও পায়ের হাড় ভাঙা পাওয়া গিয়েছে৷