স্টাফ রিপোর্টার, ব্যারাকপুর: ভাটপাড়া আছে ভাটপাড়াতেই। এখনও অশান্ত ভাটপাড়া। শনিবার রাতভর বোমাবাজির ঘটনায় ঘুম উড়েছে নাগরিকদের। দফায় দফায় রাতের অন্ধকারে তান্ডব চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অসংখ্য বাড়িতে বোমা মারা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এমনকি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এলাকায় বোমাবাজি করেছে দুষ্কৃতীদল। কে কোথা থেকে বোমা ছুঁড়ছে বুঝে উঠতে পারছে না সাধারন মানুষ। শনিবার রাতভর বোমাবাজির ঘটনায় অন্তত চারজন এলাকার বাসিন্দা বোমার আঘাতে জখম হয়েছে। এদের মধ্যে এক মহিলাও রয়েছে। জখমদের ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাতের ঘটনার রেশ অব্যাহত ছিল রবিবারও। এদিন সকালে ও ভাটপাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বোমা পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ভাটপাড়া থানার অন্তর্গত কাঁকিনাড়া বাজার, ৫ নম্বর সাইডিং গলি, ৬ নম্বর সাইডিং গলি এলাকার সমস্ত দোকানপাট, বাজার রবিবার আতঙ্কে বন্ধ রেখেছে এলাকার বাসিন্দারা। রবিবার ভাটপাড়া ছিল শুনশান, অঘোষিত বন্ধ চলছে গোটা এলাকা জুড়ে। রাত থেকে ভাটপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় চলছে পুলিশি অভিযান।

এই বোমাবাজি ও দুষ্কৃতী হামলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে কাজ না করলে ভাটপাড়া এলাকায় কোনোদিনই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যারা বোমা মারছে তাদের গ্রেফতার না করে পুলিশ জখমদের গিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অজয় ঠাকুরের মতন পুলিশ অফিসারের জন্য ভাটপাড়ার নিরীহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

দুষ্কৃতীদের নামের তালিকা পুলিশকে ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দুষ্কৃতীদের মধ্যে দু’জন খুনের আসামীও রয়েছে বলে অভিযোগ অর্জুন সিংয়ের। তাঁর বক্তব্য, খুনের আসামী হওয়া সত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই অপরাধীরা। সাংসদ বলেন, ”এই পুলিশ প্রশাসন কার্যত অস্ত্র তুলে দিচ্ছে দুষ্কৃতীদের হাতে। এই পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ কি করে থাকবে? কি করে রোজগার করবে? আগে তো জীবন। কে কোথা থেকে বোমা ফেলছে কেউ জানেনা। ভাটপাড়া অঞ্চলে ভাল মানুষ থাকছে না, দুষ্কৃতীদের মরুদ্যান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে জগদ্দল, ভাটপাড়া শহরকে। আমি কেন্দ্রের কাছে আবেদন করব, ভাটপাড়ায় যেন অবিলম্বে ৩৫৬ ধারা লাগু হয়। সাধারন মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই।”

অর্জুন সিং আরও বলেন, “প্রত্যেক থানায় অবিলম্বে নারকোটিক বিভাগের হানাদারি চালানো উচিত। মিথ্যা মামলায় গাঁজা কেস দেওয়া হচ্ছে গ্রেফতার করা ব্যক্তিকে। রাজ্যের থানা গুলোতে এত গাঁজা আসছে কোথা থেকে? এখানে বিভিন্ন থানা গুলোতে এত গাঁজা লুকিয়ে রেখেছে পুলিশ, এত পরিমাণ গাঁজার চাষ আফগানিস্তানেও হয় না। এত গাঁজা থানাগুলো পাচ্ছে কোন দেশ থেকে, এটাও জানা দরকার।”