ফাইল ছবি

কাঁকিনাড়া: লোকসভা ভোটের পর থেকেই ভাটপাড়া নজরে। এবার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। তল্লাশির নামে মহিলা বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠলো ভাটপাড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনাটি ঘটেছে ভাটপাড়া থানার অন্তর্গত রামনগর এলাকায়। রবিবার গভীর রাতে ভাটপাড়া থানার পুলিশের একটি দল রামনগর এলাকায় মহিলা বিজেপি কর্মীর মিতা সরকারের বাড়িতে যায়। মিতা দেবী তার বাড়িতে সেই সময় একাই ছিলেন। সেই সময় ভাটপাড়া থানার পুলিশ মিতা দেবীকে জানায় তার বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র, বোমা লুকানো আছে বলে তাদের কাছে খবর আছে। মিতা দেবী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুনে হতবাক হয়ে যান। মিতা দেবীকে পুলিশ কর্মীরা বলেন তাদের কাছে সার্চ ওয়ারেন্ট আছে। যদিও মিতাদেবীর দাবি তাকে কোন সার্চ ওয়ারেন্ট পুলিশ দেখায় নি। এর পরই বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী তার ঘরে ঢুকে খাট আলমারি অন্যান্য জিনিস পত্র সার্চ করতে শুরু করেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়।

যতক্ষন পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায় ততক্ষণ মিতা দেবী ফোনটি বন্ধ করে নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছিল পুলিশ কর্মীরা। ঘণ্টা খানেকের তল্লাশির পরেও কোন অগ্নেয়াস্ত্র বা বোমা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তল্লাশির শেষে অবশ্য পুলিশ মিতা দেবীকে পুলিশ লিখিত ভাবে জানিয়ে দেয় তল্লাশি অভিযান কিছু পাওয়া যায় নি। গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুরনো দিনের বিজেপি কর্মী মিতা সরকার।

মিতা দেবী বলেন “আমি ২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির সাথে যুক্ত আজ পর্যন্ত কোনো অনৈতিক কাজ আমি করি নি। এই অঞ্চলে আমি একটি বিউটি পার্লার চালাই। আমার স্বামীর অবর্তমানে যেভাবে ভাটপাড়া থানার পুরুষ পুলিশ কর্মীরা যেভাবে আমার ঘর লন্ডভন্ড করে দিল অত্যাচার করলো তাতে আমি আতংকিত। আমি পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে ভাটপাড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হবো। আমি বিজেপি করি বলেই আমার উপর পুলিশ এই নির্যাতন চালালো।”

পুলিশের এই ভূমিকার সমালোচনা করেছেন রামনগর এলাকার বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ প্রকৃত দুষ্কৃতি দের না ধরতে পেরে পুলিশ সাধারন মানুষকে হেনস্থা করছে। এই ঘটনায় পুলিশ সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খোলে নি।