স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে গেল লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব৷ প্রথমেই রাজ্যে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার দুই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পর্ব চলে৷ সারাদিন সেই নিয়েই উত্তপ্ত পরিবেশ৷ এই ভোটের লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য কেন্দ্রেও৷

উত্তর ২৪ পরগনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বারাকপুরে ক্রমশ জমে উঠছে ভোটের লড়াই। বারাকপুর কেন্দ্রে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই প্রবল । একটু দেরিতে হলেও প্রচারে নেমে পড়েছে কংগ্রেসও। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভাটপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকায় কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আলমের প্রচার সভায় যোগদান করলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের শতাধিক কর্মী সমর্থক, এমনটাই দাবি উত্তর ২৪ পরগনার কংগ্রেসের জেলা সভাপতি (শহর) তাপস মজুমদারের ।

বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের । বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে মোট ভোটের প্রায় ২০% ভোট রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের । সেই ভোট যেমন আছে, তেমন অন্যান্য সাধারন মানুষের ভোটেও থাবা বসাতে চাইছে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আলম ।

ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় ভোটের প্রচার সভা করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আলম বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ এই অঞ্চলে গত ১০ বছরে কোন কাজই করেনি, সেটা এই পূর্বাশা এলাকার অনুন্নয়ন দেখে বোঝাই যাচ্ছে । এখনো এখানে পাকা রাস্তা তৈরী হয়নি । সভা করতে এসে দেখছি এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় । এলাকা পরিষ্কার পর্যন্ত হয়না দীর্ঘদিন । আমি আসার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আমার কাছে অভিযোগ করছে । এই অঞ্চলের মানুষ এখন না তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আছে, না বিজেপির সঙ্গে আছে । এখনকার বিজেপি প্রার্থী নিজের স্বার্থের জন্য বিজেপিতে যোগদান করেছে । মানুষ উনাকে সমর্থন করবে না । কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই মানুষের কাছে তাই ব্যারাকপুরের মানুষ এবার কংগ্রেসকে বেছে নেবে ।”

কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচার সভার মঞ্চে উপস্থিত উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস মজুমদার বলেন,”এখানে আজ আমাদের বিরোধী বিজেপি ও তৃণমূল দল ত্যাগ করে ১২৫ জন যুবক যুবতী জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করল । এর আগে আমডাঙাতে সভা করতে গিয়েও ভাল সাড়া পেয়েছি আমরা । আজ এই এলাকায় যেখানে কংগ্রেসের ভীত দুর্বল ছিল, সেই সব অঞ্চলে আবার কংগ্রেস ধীরে ধীরে সাংগঠনিক দিক দিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ।” কংগ্রেসের এই প্রচার সভায় কয়েকশ কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।