নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভাটপাড়া৷ চলতি সপ্তাহেই একাধিকবার এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে ভাটপাড়াবাসী৷ বৃহস্পতিবার সকালেও তার ব্যতিক্রম হল না৷ বোমাবাজি, গুলিতে দফায় দফায় তাণ্ডব চলে৷ প্রাণ যায় ২ জনের, আহতের সংখ্যা ৭ বলে জানা গিয়েছে৷

ভাটপাড়া, জগদ্দলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ নবান্নে জরুরি বৈঠক তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যেখানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইন শৃঙ্খলা) প্রমুখের৷ ভাটপাড়ার এই কাণ্ডে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সঞ্জয় সিংহকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷

পড়ুন: ব্যাপক বোমাবাজি ভাটপাড়ায়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২

এদিকে এই পরিস্থিতি নিয়েই সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ তিনি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে যেভাবে জনসাধারণ সমর্থন করেছে তাতে মমতাদিদির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ বিজেপি কর্মকর্তাদের ঘর লুট হচ্ছে, মহিলাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে৷ ভাটপাড়ায় বোমা ফেলা হচ্ছে, গুলি চলছে৷ পুলিশও সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ পুলিশের গুলিতেই এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে৷ আর এসব কিছু হচ্ছে মমতাদিদির জন্য৷’ কৈলাস আরও জানান, ‘বিজেপি একটি কমিটি গঠন করছে, এই কমিটিকে ভাটপাড়ায় পাঠানো হবে এবং সেখানে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলা হবে৷’

নতুন থানা উদ্বোধনের আগেই এই বোমাবাজিতে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী৷ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ভাটপাড়াবাসী৷ ভাটপাড়া, জগদ্দলে ১৪৪ ধারা জারি হচ্চে৷ সমগ্র এলাকা থমথমে৷ মোড়ে মোড়ে চলছে পুলিশের নাকা চেকিং৷ বৃহস্পতিবার ভাটপাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শূন্যে ১০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ৷ সমগ্র ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত ব্যক্তিদের নাম রামবাবু সাউ এবং সন্তোষ সাউ৷ তবে পুলিশ নাকি দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ওই দুই ব্যক্তির তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি৷

পড়ুন: Breaking News: ভাটপাড়া ১৪৪ ধারা, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নবান্নে জরুরি বৈঠক

তবে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং দাবি করেছেন পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের৷ যদিও সেই দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র৷ এক বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে ফোনে প্রতিক্রিয়া দেওয়া সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পুলিশ জানিয়েছে তারা শূন্যে গুলি ছুঁড়েছে৷ অর্জুন সিং কীভাবে আগে থেকেই জানলেন পুলিশের গুলিতে এই মৃত্যু?’ স্থানীয় দুষ্কৃতী এবং বহিরাগতদের যোগ রয়েছে বলে মনে করছে অনেকে৷ ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা৷