সৌমেন শীল, নয়াদিল্লি: একদিকে যখন কলকাতার রাস্তায় ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে তখন তাঁর একসময়ের সহযোগী মুকুল রায় বড়সড় ছক্কা হাঁকালেন। বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার ভারতী ঘোষ।

একসময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই পুলিশ অফিসারের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল Kolkata24x7-এ। রাজ্যে পুলিশ-সিবিআই সংঘাতে মাঝেই বিজেপিতে যোগ দিলেন ভারতী।

পড়ুন: লোকসভা ভোটের আগেই বিজেপিতে ভারতী ঘোষ

সোমবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন ভারতী।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ভারতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এটা সত্যাগ্রহ নয়, অসত্যাগ্রহ চলছে।’ তিনি বলেন, একসময় গান্ধীজি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলেন। আর আজ যেখানে সাধারণের টাকা খোয়া গিয়েছে, সেই মামলায় পুলিশ অফিসারের জন্য সত্যাগ্রহ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পড়ুন: ভারতী ঘোষের সম্পত্তি হিসেবে ৩২০ শতাংশের ‘গরমিল’

এদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় মুকুল রায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গী ও রবিশঙ্কর প্রসাদ।

একসময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ট এই অফিসার ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার এসপি ছিলেন৷ বলেছিলেন – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জঙ্গলমহলের ‘মা৷’ তবে জঙ্গলমহলের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বেশিদিন মধুর হয়নি ভারতীর৷ মমতার উপর গোঁসা করেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আইপিএস ভারতী। তখন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর৷ এরপর মেদিনীপুর শহর ছেড়ে চলে যান ভারতী৷

ভারতী ঘোষ যে রাজনীতির অস্ত্রেই ঘায়েল করতে চেয়েছিলেন সেকথা আগেই জানা গিয়েছিল। নতুন লড়াইতে তাঁর লক্ষ্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি ভোটে লড়েই তৃণমূলকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল।

একাধিকবার নির্বাচন কমিশন তাঁকে অন্যত্র বদলি করে দিয়েছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই যথাস্থানে ভারতীকে বহাল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব শুরু হতে থাকে ভারতী ঘোষের। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে যায় যে ২০১৮-র জানুয়ারি মাসে পুলিশ সুপারের পদ থেকে ইস্তফা দেন ভারতী। এরপরে তাঁর নামে নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় রুজু হয় মামলা। কিন্তু ভারতী ছিলেন অন্তরালে। কোনও খোঁজ মেলেনি দাপুটে পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের। প্রায় বছরখানেক পর সোমবারই তাঁকে দেখা গেল বিজেপির সদর দফতরে।

এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পদের কোনও লোভ নেই। ঝাড়গ্রাম থেকে লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা, সেব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ভারতী বলেন, তিনি ভোটে লড়তে চান না।