মৌসুনি : আম্ফানের (amphan) বাধা কাটিয়ে নতুন করে গড়ে উঠেছিল মৌসুনী দ্বীপ (mousuni island)। ফের ইয়াসের (yaas) সাইক্লোনে (cyclone) তছনছ হয়ে গেছে চারটি মৌজার পনেরোটি গ্রামের সবকিছু। জলের তোড়ে ভেসে গেছে সমস্ত মাটির ঘর বাড়ি। নষ্ট হয়ে গেছে কৃষি জমি। রোজগার তো দুরের কথা প্রতিদিন কী খাবেন তা নিয়ে খুবই চিন্তিত মৌসুনীদ্বীপ ও তার আসপাশের এলাকার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষকে দু’বেলা রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ।

সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, ‘মৌসুনীদ্বীপ ছাড়াও দক্ষিন ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের পাতিবোনিয়া, দ্বারিকনগর, চাঁদপুর, দুর্গাপুর, ঈশ্বরীপুর, নাদাভাঙা, নারায়নপুর, ফ্রেজারগঞ্জ, বুধাখালি,নিউ বকখালি ও উত্তর চন্দনপিড়ির প্রায় ২০ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার, ৮ হাজার জলবন্দি মানুষকে শুকনো খাবার ও জামা,কাপড়, ত্রিপল সহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রতিদিন তুলে দেওয়া হচ্ছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের পক্ষ থেকে। সঙ্ঘের প্রধান কার্যালয় কলকাতার বালিগঞ্জ থেকে সন্নাসী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকায় গিয়ে কাজ করছেন।’

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের (bharat sevasram sangha) উদ্যোগে আগেই দুই ২৪ পরগনা (24 paganas) ও পুর্ব মেদিনীপুর (east midnapore) বিস্তীর্ণ এলাকায় রান্না করা খাবার বিতরনের কাজ শুরু হয়েছে। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ পরিচালিত বিরাটি হিন্দু মিলন মন্দিরের উদ্যোগে এলাকায় মানুষকে শুকনো খাবার (dry food) দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিরাটি হিন্দু মিলন মন্দিরের যুগ্ম সম্পাদক সুকুমার সরকার ও প্রনব ছাত্রাবাসের প্রধান পরিচালক শুভাশিষ বাগচি এলাকার গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের চাল, ডাল, চিড়ে,মুড়ি, বিষ্কুট,কেক সহ বিভিন্ন শুকনো খাবার তুলে দেন।

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দুই ২৪ পরগনা ও পুর্ব মেদনিপুরের কয়েক হাজার ঘরছাড়া মানুষকে সঙ্ঘের ত্রান শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। কোটালের ফলে জলমগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা ও শুকনো খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সঙ্ঘের সন্নাসী ও সেচ্ছাসেবকরা।’

সম্প্রতি চমক দিয়েছে ভারত সেবাশ্রম (sevasram)। ভেঙেছে তাদের নিয়ম (rule)। ১০৪ বছরের নিয়ম বদলায় করোনা রোগীদের স্বার্থে। তাদের শরীরে প্রয়োজন মাছ-মাংস-ডিমের মতো প্রোটিন। সেটার ব্যবস্থা করেছে তারা, যা নিয়ম ভেঙে অন্যরকম বার্তা দেওয়া গিয়েছিল।

এক প্রকার মানবসেবার কাছে মাথা নামায় ধর্ম। কোনও দিন কোনও শাখায় ঢোকেনি আমিষ খাবার। সেটাই এবার হচ্ছে। আশ্রমেই তৈরি হচ্ছে ডিম সেদ্ধ, মাংসের ঝোল।

ভারত সেবাশ্রম সংঘ ভারতে দাতব্য বেসরকারি সংগঠন। এটি প্রতিষ্ঠা করেন, আচার্য শ্রীমত স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯১৭ সালে।

সংঘের শাখা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গায়ানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, কানাডা, ফিজিতে বাংলাদেশে। সবমিলিয়ে একশো আশ্রম রয়েছে। ভারত সেবাশ্রম এটি আফ্রিকাতেও তাদের মিশন শুরু করেছে। কাজ করছে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায়।

এর মূল কার্যালয় বালিগঞ্জে। অন্ধ্র এবং ওডিশার ঝড় , ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষ, ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়, ২০০১এ গুজরাট ভূমিকম্প এবং ২০০৪ সালের সুনামিতে মানুষের সাহায্যে কাজ করেছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.