নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে তিন ভারতরত্ন প্রাপকের নাম ঘোষণা করেছে সরকার। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, সঙ্গীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা সহ সেই তালিকায় রয়েছে আরও একটি নাম, নানাজি দেশমুখ। মরণোত্তর ভারতরত্ন পাচ্ছেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইট করে জানিয়েছেন, সমাজের উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

কিন্তু কে এই নানাজি দেশমুখ?

মহারাষ্ট্রের পরভানি জেলার কাদোলি শহরে জন্ম তাঁর। ১৯১১ সালের ১১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন নানাজি দেশমুখ। সমাজকর্মী হিসাবে মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ এলাকাকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন নানাজি। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক দলের সদস্য হিসেবে নানাজি দেশমুখ জেপি মুভমেন্টেও এক প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

ব্রিটিশ আমলে জন্ম তাঁর। তাই পরাধীনতার শৃঙ্খলকে চোখের সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন নানাজি। শিক্ষায় ছোটবেলা থেকেই তাঁর আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু পড়াশোনা করার মতো অর্থ তার পরিবারের কাছে ছিল না। সেই জন্য সবজি বিক্রি করে নিজের পড়াশোনার খরচ তুলতেন তিনি। ছোট থেকে বালগঙ্গাধর তিলকের আদর্শে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। বিড়লা কলেজ যা এখন বিটস পিলানি নামে পরিচিত সেখানে পড়াকালীনই তিনি আরএসএস-এর সংস্পর্শে আসেন তিনি।

নানাজি দেশমুখ যখন আরএসএস জয়েন করেছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩। ১৯২৬ সালে নাগপুরে দাঙ্গায় এলাকাছাড়া হতে হয় হিন্দুদের। এরপরই আরএসএস-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

দীর্ঘদিন আরএসএসে কাজ করেছেন তিনি। পরে জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে জেপি মুভমেন্টের এক অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন নানাজি। লোক সংঘর্ষ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। জয়প্রকাশ নারায়ণের টোটাল রেভোলিউশনে এক অন্যতম খুঁটি হয়েছিলেন তিনি। দিল্লি থেকে একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল তাঁকে।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর থেকে ভোটে জিতে সাংসদ হন তিনি। পরে সব ছেড়ে সমাজের জন্য কাজ করতে শুরু করেন।

ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম সদস্য ছিলেন নানাজি দেশমুখ। ২০১০ সালে ৯৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর প্রায় ৮ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন নানাজি।