নয়াদিল্লি: উগ্র ভারতের ধারণা তৈরি করতে ‘জাতীয়তাবাদ-দেশপ্রেম এবং ভারতমাতার জয়’ প্রভৃতি স্লোগানের অপব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মৌলবাদ এবং আবেগের পরিসর প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস এর নেপথ্যে কাজ করছে। এই প্রয়াস থেকে শতযোজন দূরে সাধারণ নাগরিকরা। শনিবার একটি অনুষ্ঠানে এসে ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

এদিন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘কাজ এবং ভাবনা’ সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, সজাগ ও সতর্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে ভারত আজ অন্যতম এক স্থান করে নিয়েছে। দেশের এই অবস্থান তৈরি করার মূল কাণ্ডারি হল স্বয়ং জওহরলাল নেহেরু।”

মনমোহন সিং এদিন বলেন, জওহরলাল নেহরু এই দেশকে আধুনিক ভাবে গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গণতান্ত্রিক দিক থেকে তাঁর কাছে সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পৃথক ছিল।

তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু। যিনি ভারতীয় ঐতিহ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন, তিনিই প্রথম নতুন আধুনিক ভারতের প্রয়োজনের কথা উপলদ্ধি করেছিলেন। এবং সেই সময় বিষয়টি সকলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তাঁর মতে, “আধুনিক ভারত গড়ার লক্ষে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন নেহেরু।” তাঁর নেতৃত্ব না থাকলে, ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হত না।” এদিন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ”দুর্ভাগ্যবশত এক শ্রেণির মানুষ যাদের ইতিহাস পড়ার ধৈর্য নেই, তাঁরাই নেহরুকে খলনায়ক বানাচ্ছেন। তবে আমি আশাবাদী ইতিহাসের সেই ক্ষমতা আছে, মিথ্যা ও ভ্রান্ত প্রচারকে দূরে সরিয়ে সব কিছুকে আগের জায়গায় নিয়ে আসবে।

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “ভারত মাতা কে? কার জয় আপনারা দেখতে চান? এই পাহাড়,নদী, জঙ্গল, ময়দান সবার কাছেই প্রিয়। এই বৃহৎ দেশে ছড়িয়ে আছেন যারা, সেসব মানুষের স্বার্থেই এগুলো তৈরি হয়েছে।”