নয়াদিল্লিঃ দেশজুড়ে মারণ ভাইরাসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পরিস্থিতি। দিনে দিনে রেকর্ড হারে মানুষজন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। থেমে নেই মৃতের সংখ্যাও। সংক্রমণের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোটা দেশজুড়ে লকডাউনে ‘না’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনসচেতনতা এবং টিকাকরণকেই মূল হাতিয়ার করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও করোনা বিধি নিয়ে জনমানসে এখনও থোড়ায় কেয়ার মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তো অন্যদিকে দেশে টিকার পর্যাপ্ত যোগানেও ঘাটতি।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে যেখানে ভ্যাকসিনের ঘাটতি টিকাকরণ অভিযানকে ব্যাহত করছে, সেখানে একদল অসাধু মানুষ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিনের কালোবাজারি শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, এর থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ভ্যাকসিন গ্রহণে হ্যাকারদের তাণ্ডব। তারা ভ্যাকসিন আপডেট সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের বাহানায় ফোনে একটি এসএমএস পাঠাচ্ছে। সেই ট্রাপে কেউ পা দিলেই খোঁয়া যেতে পারে সর্বস্ব।

এই হ্যাকারদের তাণ্ডবের বাড়বড়ন্তে এবার নড়েচড়ে বসেছে সাইবার সেল। এই কাণ্ডটি সামনে নিয়ে এসেছেন হ্যাক বিষয়ক গবেষক লুকাস স্টেফ্যানকো। তিনি তাঁর টুইটার হ্যান্ডেলে কয়েকটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, করোনা অতিমারীর মধ্যে ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীরা হ্যাকারদের চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন। হ্যাকাররা একটি এসএমএসের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

হ্যাকাররা মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠাচ্ছে। যেটিতে একটি লিঙ্ক থাকছে, সেই লিঙ্কে ক্লিক করে ভ্যাকসিনের আপডেট পেতে একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে। যদি কেউ সেই ফাঁদে পা দেয়, তাহলে অ্যাপ্লিকেশনটি ইনস্টল করার পর কনট্যাক্ট লিস্ট, টেক্সট মেসেজ দেখার অ্যাকসেস চাইবে। আর যেটি করলেই ব্যক্তিগত তথ্য পৌঁছে যাবে হ্যাকারদের হাতে। অধিকাংশ ভারতীয়দের মধ্যে কোনও অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার পর, যে যে অ্যাকসেস চাওয়া হয়, তা না পড়েই দিয়ে দেওয়ার পর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ফলস্বরূপ ঝুঁকির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ান সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ‘সাইবেল’ এই মর্মে জানিয়েছে, ‘স্ক্যামাররা এসএমএস পাঠিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি, মোবাইলে আগে থেকে ইনস্টল থাকা প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন গুলি মুছেয়েও ফেলতে পারে। তাই সাইবার সেলের তরফে কোভিড পরিস্থিতিতে এই সমস্ত স্ক্যাম থেকে সতর্ক থাকার আবেদন করা হচ্ছে দেশবাসীর কাছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.