তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাজ্য সরকার বিরোধীদের কোনও কাজ করতে দিছে না। এই অভিযোগ তুলে, মুখ্যমন্ত্রীকে পোষ্যের সঙ্গে তুলনা করে বাড়ির বাইরে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হইতে সাবধান’ লেখা বোর্ড লাগানোর পরামর্শ দিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

রবিবার বিষ্ণুপুর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, উনি কোনও ভালো কাজ করতে আসেননি। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানা বন্ধ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, সিঙ্গুরে ছোটো গাড়ি প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই রাজ্যে কটা শিল্প স্থাপন হয়েছে কেউ বলতে পারবেন। জেলার কংসাবতী সেচ প্রকল্পে যারা চাকরীর সুযোগ পেয়েছে প্রত্যেকেই বেহালা থেকে। পূর্ব মেদিনীপুরের, বিষ্ণুপুরের কোনও বেকার যুবক ওই কাজ পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। এই প্রকল্পে কাজ পেতে ‘টেবিলের তলা দিয়ে টাকার লেন দেন’ হয়েছে বলেও এদিন স্পষ্টতই অভিযোগ করেন তিনি।

এদিনও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে ‘হরিদাস ব্যানার্জী’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, এই দল শুধুমাত্র ওনার। তাই গত জানুয়ারী মাসে ‘ওয়াক থুঃ’ করে এই দলটা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ‘বিতর্কিত’ এই বিজেপি সাংসদ। আর এক ধাপ এগিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সাংঘাতিক ভাইরাস’ ও ‘খতরনাক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, উনি বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুরের জন্য কিছুই করেননি। কলকাতার কয়েকজন নেতাকে দিয়ে বাঁকুড়ার মানুষকে ঠকাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিষ্ণুপুরের পৌরপ্রধান শ্যামান্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাজের নিরিখে ‘ব্যর্থ’ দাবি করে পুরবাসীকে বিষ্ণুপুর পুরসভার দায়িত্ব বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর এই বিস্ফোরক মন্তব্য প্রসঙ্গে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।