বেঙ্গালুরু: দু’মাসেরও বেশি সময় লকডাউন চলার পর জুনের শুরু থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘আনলক-১’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদ দিলে লকডাউন শিথিলতার কারণে মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে জনজীবন। আর লকডাউন শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে ঊর্দ্ধমুখী করোনা আক্রান্তের গ্রাফ। দেশে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা কিংবা মৃত্যু নিয়ম করে নয়া নয়া রেকর্ড গড়ছে। তাই দেশে কোনওভাবেই ক্রিকেট চালু করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সব দেখেশুনে বলছেন জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি প্রধান রাহুল দ্রাবিড়।

সর্বমোট ৪ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি আক্রান্ত নিয়ে ভারতবর্ষ এখন পৃথিবীর মধ্যে করোনা আক্রান্তের নিরিখে চতুর্থস্থানে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং রাশিয়ার ঠিক পরেই স্থান ভারতের। দেশজুড়ে তিনমাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ সমস্ত মেজর স্পোর্টস ইভেন্ট। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনা উদ্বেগকে দূরে সরিয়েই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ। ফুটবল ফিরেছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখনও আসেনি এদেশে। বলছেন ‘দ্য ওয়াল’।

দ্রাবিড় জানাচ্ছেন, ‘আমাদের দেশে এখনও ক্রিকেট ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ এই মুহূর্তে। আমাদের এখন এক একটা মাস ধরে ভাবা উচিত। সবরকম বিকল্পের কথা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের ঘরোয়া মরশুম সচরাচর অগস্ট-সেপ্টেম্বরে শুরু হয়, সেটা যদি অক্টোবরে শুরু হয় তাহলে সেটা ছোট করা যায় কিনা ভাবতে হবে।’ একইসঙ্গে দ্রাবিড় বলছেন এনসিএ স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। বাইরে থেকে যারা আসবে তাদের জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন আবশ্যক। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব হবে, সেটা এখনও আলোচনা স্তরে রয়েছে বলে জানান এনসিএ প্রধান।

দ্রাবিড়ের কথায়, ‘এখনও সবকিছু অনিশ্চিত। সরকারি গাইডলাইন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশিকা মেনে খেলা কতোটা সম্ভব হবে জানা নেই। এপ্রিল থেকে জুন সাধারণত এনসিএ’র সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়। এইসময় আমাদের জোনাল, অনুর্ধ্ব১৬, অনুর্ধ্ব১৯, অনুর্ধ্ব২৩-র শিবির আয়োজিত হয়। কিন্তু এবছর আমাদের সব নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। আশা রাখছি চলতি বছর অল্পবিস্তর ক্রিকেট যাতে খেলা সম্ভব হয়।’

উল্লেখ্য, বায়ো-সিকিওর পরিবেশে ৮ জুলাই থেকে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের মধ্যে দিয়ে বাইশ গজে ফিরবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। চলতি মাসের শুরুতেই সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড পৌঁছে গিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। গাইডলাইন মেনে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে তারা। এরপর তিন ম্যাচের টেস্ট এবং টি২০ সিরিজ খেলতে ২৮ জুন ইংল্যান্ড যাচ্ছে পাকিস্তান দলও।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব