পূজা মণ্ডল, কলকাতা : জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের মানবতার পথ চেনাল কলকাতার বেথুন কলেজ। স্নাতক স্তরে ভরতির অনলাইন ফর্মে ‘রিলিজিয়ন’-এর অপশনে ‘হিউম্যানিটি’ অপশন যোগ করেছে বেথুন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কোনও কলেজে ভরতি প্রক্রিয়ার ইতিহাসে যা প্রথম।

‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’। ভারতীয় সংস্কৃতি যুগে যুগে এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে আগামী প্রজন্মকে। এবার সেই আদর্শকে পাথেয় করেই শিক্ষাঙ্গনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলা তরুণদের এই বার্তাই দিল বেথুন কলেজ। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভরতি প্রক্রিয়ায় তাদের যোগ করা এই অভিনব চিন্তা নজিরবিহীন।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের নিয়মে এবার সমস্ত ইউনিভার্সিটিই তাদের আবেদনের বিষয়টি অনলাইনে করে দিয়েছেন। ফর্ম ফিলাপ করতে কোন শিক্ষার্থীকেই আর ক্যাম্পাসে আসতে হবে না। দিতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন। সর্বোপরি, ভরতি প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অস্বচ্ছতার অভিযোগ রুখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

বেথুন কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত মহিলা কলেজ। ২০১৫ সালে ‘NAAC’ এর বিচারে ‘A’ বিভাগে মনোনীত হয় এই কলেজ। এছাড়াও ২০১৯ সালে অর্থাৎ চলতি বছর ‘NIRF’ এও ৫০ স্কোর করেছে তাঁরা। এই বেথুন কলেজে ভরতি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করতে হলে প্রথমেই দিতে হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য। ছাত্রী কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন সেই তথ্য অনলাইনে আবেদনের সময় প্রয়োগ করতে হচ্ছে। সেই অপশনে ক্লিক করলেই রয়েছে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের মত অপশনগুলি। আর সবার প্রথমেই আসছে ‘হিউম্যানিটি’ অপশন।

এখানেও নিজেদের চিন্তাধারার চমতকারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বেথুন কর্তৃপক্ষ। কারণ এখানেও তাঁরা ফুটিয়ে তুলেছেন সেই আদর্শকেই – ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। নিজের ধর্ম সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পরই বাকি তথ্যগুলো দিতে পারবেন আবেদনে ইচ্ছুক ছাত্রী।

বেথুন কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মমতা রায় kolkata 24X7 কে বলেন, “এটা আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ একটা মিলিত সিদ্ধান্ত।

ছোট ছোট অনেক বাচ্চারা আসছে, যারা বলছে কোন ধর্মে বিশ্বাস করি না। কিন্তু সব ধর্মের আগে তো মানবত্‌ তাই আমরা এই অপশন রেখেছি আমাদের আবেদন,ফর্মে।”

ভরতি প্রক্রিয়ায় আবেদনকারী এক ছাত্রী পূজা সরকারের কথায়, “আমি এবছর বেথুন কলেজে ইংরাজি বিভাগে আবেদন করেছি। তবে এমন উদ্যোগ কোথাও দেখিনি। এটা সত্যিই অভিনব এবং প্রশংসনীয়।”