বেঙ্গালুরুঃ  সূত্রপাত হয়েছিল গত শনিবার৷ সেদিন সকালে হঠাত করেই কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের কমপক্ষে ১১ বিধায়ক ইস্তফা দেন কর্ণাটক অ্যাসেম্বলি স্পিকারের কাছে। তবে সেদিন শনিবার ছুটির দিন বলে তাদের গতকাল সোমবার আসার কথা বলেন স্পিকার৷ এদের মধ্যে মধ্যে ৮ জন কংগ্রেসের এবং তিনজন জনতা দল সেকুলারের বিধায়ক বলে খবর৷

কিন্তু সোমবার সমস্ত হিসাব বদলে যায়। রাস্তারাতি বেড়ে যায় সংখ্যা৷ সোমবার সকালে জোট সরকারকে বিপদে ফেলে মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন কংগ্রেসের ২২ জন মন্ত্রী। যা নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়ে গিয়েছে কুমারস্বামী সরকার। আর এই অস্বস্তি বাড়িয়ে আজ মঙ্গলবার পদত্যাগ করলেন আরও এক বিধায়ক। কংগ্রেস বিধায়ক রোশন বাগ বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর ইস্তফা আরও অস্বস্তি সঙ্কট বাড়িয়েছে কর্নাটক সরকারের।

রোশন বাগ জানিয়েছেন, আমি খুবই মর্মাহত। আর তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। গত নির্বাচনে যে সমস্ত দলের নেতারা কার্যত পিছন থেকে ছুরি মারল তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না। আর আমার বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নিল কারণ আমি সত্যিটা সামনে এনেছি। শুধু তাই নয়, রোশন বাগের আরও দাবি, কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আনার জন্যেই আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। আর সেই কারণেই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন রোশন।

অন্যদিকে, কর্ণাটকে জোট সরকারের রাজনৈতিক ভবিষ্যত বিশ বাঁও জলে৷ সেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি৷ কর্ণাটকে জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে সরকার গড়তে রাজি রয়েছে বিজেপি৷ এ ঘোষণা আগেই করেছিল পদ্ম শিবির৷ মঙ্গলবার জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামীর পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বিরোধী বিজেপি৷

তাঁদের দাবি ১৪ জন জোট সরকারের বিধায়কের পদত্যাগের ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে কর্ণাটকের কংগ্রেস-জেডিএস সরকার৷ ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই কুমারাস্বামীর৷ দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার দুপুরে জেলার সদর দফতরগুলির সামনে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে একযোগে বিক্ষোভ দেখাবে বিজেপি৷ সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে একথা জানান রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র জি. মধুসূদন৷