কলকাতা : একদিকে দেশে কৃষি বিল আরোপিত হওয়ায় খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে অপরদিকে কৃষকদের দাম না পাওয়ার কথা উঠছে। প্রতিবাদ জানাচ্ছে কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকে। রাজনৈতিক দল তো রয়েইছে। ঠিক সেই সময়েই এক বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে বাংলার দুধ বিক্রেতা ও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষেদের জীবন-জীবিকার ধরনই বদলে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ১৮ হাজার দুধ উৎপাদনকারীর জীবন জীবিকা বদলাতে পারে কেভেন্টার অ্যাগ্রোর হাত ধরে। এমনটাই মনে করছে সংস্থা। কারন তারা খুলল তাঁদের নবম বাল্ক মিল্ক কালেকশন সেন্টার (বিএমসি) চালু করার কথা ঘোষণা করল।

এই কেন্দ্রের জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা। রাজ্যে মোট ৯টি বিএমসি তৈরি করতে কেভেন্টার অ্যাগ্রো বিনিয়য়োগ করেছে ৬ কোটিরও বেশি টাকা। এই কালেকশন কেন্দ্রটির আয়তন ১৫০০ স্কোয়ার ফুট। যা চালু হয়েছে খড়্গপুরের বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে। আশা করা হচ্ছে এখানে দৈনিক ২০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করা যাবে। আর এতেই বদলে যেতে পারে দুধ বিক্রেতা এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষেরদের জীবন জীবিকা।

দুধ উৎপাদনকারীদের জীবন জীবিকার উন্নতি বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শ্রী জালান বলেন, ‘ গত ২৫ বছর আমরা এই শিল্পে রয়েছি। আমরা সব সময় গ্রাহকদের গুণমানসমপন্ন পণ্য সরবরাহ করার নীতিতে বিশ্বাস রেখেছি। সেই সব পণ্য তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, আমরা সব সময় দুধ উৎপাদনকারী সম্প্রদায়ের জীবনের মান উন্নত করার জন্য, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য সচেষ্ট থেকেছি।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘এই কালেকশন সেন্টারগুলি আমাদের সুযোগ করে দেয় দুধ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এবং তাঁদের পথ দেখানোর জন্য যাতে তাঁরা দুধ উৎপাদনকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারেন এবং আরও বেশি উৎপাদন করতে পারেন। দুধ উৎপাদনকারীদের সর্বদা সেরা দাম দেওয়ার নীতিতে আস্থা রেখে এসেছে কেভেন্টার অ্যাগ্রো, এবং আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় রাজ্যজুড়ে আমরা ১৮ হাজার দুধ উৎপাদনকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পেরেছি। আমরা আশাবাদী যে, খড়্গপুর বাল্ক মিল্ক কালেকশন সেন্টার চালু করার ফলে আমরা এই নেটওয়ার্ক আরও বাড়াতে পারব।’

এই কেন্দ্রের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে কেভেন্টার অ্যাগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মায়াঙ্ক জালান বলেন, ‘কোভিড ১৯ আমাদের জীবনশৈলিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এখন স্বাস্থ্যরক্ষার অন্যতম নির্ধারক বিষয় হয়ে উঠেছে খাদ্যের পুষ্টিগুণ। যেহেতু ডেয়ারি পণ্যগুলির সামগ্রিক খাদ্যগুণ রয়েছে তাই সব পরিবারে এসব খাবারের চাহিদা বাড়ছে। এবং আমরা বিশ্বাস করি, স্বাভাবিক অবস্থা ফেরার পরেও এই প্রবণতা বজায় থাকবে। এররকম পরিস্থিতিতে কালেকশন সেন্টারের একটা নেটওয়ার্ক থাকাটা এমন একটা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলে সাহায্য করে যেখানে রাজ্যের ডেয়ারি শিল্পের পরিসরে কোম্পানি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এবং বাড়তি চাহিদা মেটাতে তৈরি থাকতে পারে।’ আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিএমসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কেভেন্টার অ্যাগ্রোর। তাদের লক্ষ্য দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪০০,০০০ লক্ষ লিটার দুধে নিয়ে যাওয়া।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।