ফেব্রুয়ারির শীত শেষে করে এল বসন্ত ঋতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রা। কিন্তু এবার তিনি একা আসেননি ওনার সঙ্গে এক নতুন বন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। নাম কোভিড ১৯। আমাদের ভারতবর্ষের মতন এই দেশেও গুজব আগুনের মতনই ছড়ায় শুধু পার্থক্য এখানেই যে সে কথা গুজব না সত্যি সেটা জেনে নেওয়ার মতন অনেক উপকরণ রয়েছে হাতের কাছেই। ডিজিটালি উন্নত দেশ হওয়ার এটা একটা বিরাট সুবিধা তাই এই ডিজিটাল সুবিধার মাধ্যমে আমিও জেনে নিলাম দেশের পরিস্থিতি।

সকালে আমার কন্যাকে তার স্কুল বাসে তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দেখেছিলাম মোবাইল ফোনে নিউজ এপ্লিকেশন। এটা ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখের খবর’করোনা ভাইরাস ইন ইউনাইটেড স্টেটস’। তখন ৭০ জন আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারণ তখনও গতানুগতিকভাবে চলছে। মেয়ের স্কুল, আমার কর্মসংস্থান একই ভাবে চলছে এক সপ্তাহ পর দেখি দেশের চিত্রটা পাল্টে চ্ছে ক্রমশ ভয়াবহ দিকে।

এটা মার্চ মাসের ১৩ তারিখের ঘটনা। আমাদের সবার কর্মসংস্থানে নির্দেশ দেওয়া হলো ওয়ার্ক ফ্রম হোম, স্কুল থেকে বিজ্ঞপ্তি পাঠালো যে আগামী অনির্দিষ্টকাল স্কুলের পাঠ্যক্রম বাড়ি থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হবে। এই দেশে এটাও সম্ভব কারণ প্রায় সবার বাড়িতে ওয়াইফাই থাকে। আর প্রত্যেকের একটা করে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ থাকে। এভাবেই চলতে লাগল দৈনন্দিন জীবনযাপন। অন্যদিকে নিউ জার্সির গভর্নর ফাইনালি জানালো লক ডাউনের কথা। এখানে লক ডাউন মানে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ওষুধের দোকান, মুদিখানার দোকান, শাকসবজি এবং মাছ মাংসের দোকান খোলা থাকবে। নির্মাণকার্য চলতে থাকবে, সরকারি কর্মসূচি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে হবে ইমেইলের মাধ্যমে বা ফোনের মাধ্যমে।

বাকি সবাই কাজ করবে বাড়ি থেকে, স্কুল-কলেজের কর্মসূচিও চলবে সবার বাড়ি থেকে। জানালার বাইরে চোখ রেখে দেখলাম ভীষণ সুন্দর পৃথিবী নীল আকাশ, সবুজ চারিদিকটা ঝরে যাওয়া পাতাগুলোর জায়গায় নতুন পাতা ধরেছে। দেশ-বিদেশ থেকে আবার বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা আমার জানলার বাইরে এসে বসছে আবার কিছু হরিণ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে ঘাস খাচ্ছে নিশ্চিন্তে।

বেরোচ্ছে না শুধু মানুষ যারা এতদিন সারা পৃথিবীতে রাজত্ব চালিয়েছিলো টাকা থাকলোও নিজের আত্মীয়দের মুখ দেখতে পারছে না। এর মধ্যে আমাদের নিউজার্সির গভর্নর এখানকার বাসিন্দাদের কে অনুপ্রেরণা দেবার জন্য একটি করে ভিডিও করছে আর তার লিংক পাঠিয়ে দিয়েছে সবার মোবাইলে। প্রত্যেক মুহূর্তে ওয়েব সাইটে খবর পাওয়া যাচ্ছে আজ কতজন আক্রান্ত হলো কতজনের মৃত্যু হল কতজন বেঁচে গেল। আর আমরএর। বন্ধ বাড়িতে তিন তিনটে প্রাণী নিজের নির্জনতাকে আলিঙ্গন করে প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে মুক্তির ঘোষণার।